বিশ্বকাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কান আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনার দেওয়া ওভার-থ্রোয়ের সিদ্ধান্তে সহমত প্রকাশ করেছে খোদ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। আইসিসির গভর্নিং বডি মনে করছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আম্পায়ার সঠিক প্রক্রিয়াই অবলম্বন করেছেন।
ঘটনা গেল ১৪ জুলাইয়ের। বিশ্বকাপের ফাইনালে লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ তিন বলে তখন জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের দরকার নয় রান। বোলিংয়ে ট্রেন্ট বোল্ট। ব্যাটিংয়ে বেন স্টোকস। নন স্ট্রাইকে ছিলেন আদিল রশিদ। স্টোকসে যে করেই হোক স্ট্রাইক ধরে রাখতে মরিয়া ছিলেন। কারণ, তিনি স্ট্রাইক পালটালেই ট্রফি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার শঙ্কার মুখে পড়তে হতো ইংল্যান্ডকে।
শেষ ওভারের চতুর্থ বলটায় মিড উইকেটে ঠেলে দিয়ে দুই রান নেওয়ার চেষ্টা করেন স্টোকস। ওপার থেকে বল থ্রো করেন মার্টিন গাপটিল। শেষ প্রান্তে পৌঁছাতে ড্রাইভ দেন স্টোকস।
বলটি তার ব্যাটে লেগে বাউন্ডারিতে চলে যায়। ব্যাট হাতে দুই আর ওভার-থ্রো তে চার রান মিলে ইংল্যান্ডের স্কোরবোর্ডে ছয় রান যোগ করার নির্দেশ দেন লঙ্কান আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা। শেষ দুই বল থেকে ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য তিন রান দরকার ছিল। ইংল্যান্ড করে দুই রান। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সুপার ওভারে দুই দলই ১৫ করে রান করলে বাউন্ডারিতে এগিয়ে থেকে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয় ইংল্যান্ড।
ম্যাচ শেষে ঐ ওভার থ্রোর ডেলিভারিতে ছয় রান আসা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। আইসিসির আইনের ১৮.৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী ওভার থ্রোতে যদি বাউন্ডারি আসে, তাহলে দৌড়ে নেওয়া রানের সঙ্গে সেটা যোগ হয়। তবে সেক্ষেত্রে বাউন্ডারির সাথে দৌড়ে নেওয়া রান ততগুলোই যোগ হবে যতগুলো ব্যাটসম্যানরা শেষ করেছে।
অর্থাত্, ফিল্ডার বল থ্রো করার মুহূর্তে যদি ব্যাটসম্যানরা একে অপরকে অতিক্রম করে তবেই সেই রান যোগ হবে। টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা গেছে রশিদ ও স্টোকস একে অপরকে অতিক্রম করার আগেই গাপটিল থ্রো করেছিলেন। সেক্ষেত্রে, নিয়ম অনুযায়ী ইংল্যান্ড ছয় না, বরং পাঁচ রান পায়।
আইসিসির ক্রিকেট বিষয়ক জেনারেল ম্যানেজার জিওফ অ্যালারডাইস ক্রিকেট বিষয়ক গণমাধ্যম ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে বলেন, ‘ব্যাটসম্যানরা একে ওপরকে অতিক্রম করেছেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজটা মাঠের দুই আম্পায়ারকেই নিতে হতো। মাঠে আম্পায়াররা নিজেদের মধ্যে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অবশ্যই তারা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক কৌশলই অবলম্বন করেছে। তারা আইনের ব্যাপারে সচেতন ছিলেন। নিয়মই বলে যে, এইসব ক্ষেত্রে তারা থার্ড আম্পায়ারের দ্বারস্থ হবেন না। আর ফিল্ড আম্পায়ারের নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তে ম্যাচ রেফারিও হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা রাখেন না।’