রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নয়তো পৃথক রাষ্ট্র দিন

মিয়ানমারের রাখাইনে নির্যাতিত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের সেদেশের নাগরিকত্ব, না হয় পৃথক রাষ্ট্র দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ। তুরস্কে চার দিনের সফরকালে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে এ কথা বলেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়া অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক                 গলাতে পছন্দ করে না, কিন্তু মিয়ানমারে যে জাতিগত নিধন বা গণহত্যা চালানো হয়েছে- সে বিষয়ে কথা বলতে বাধ্য হচ্ছে মালয়েশিয়া। তিনি বলেন, এক সময় মিয়ানমার ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যে বিভক্ত ছিল। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তি মিয়ানমারকে একটি দেশ বানিয়ে তা শাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে মিয়ানমারের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এখন সেসব জাতিগোষ্ঠীকে মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে মর্যাদা দিতে হবে। না হলে তাদের ভূমি দিতে হবে যেখানে তারা নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করতে পারবে।

২০১৭ সালের আগস্টে কয়েকটি পুলিশ চৌকিতে বিদ্রোহীদের হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নিধন অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নৃশংস নিপীড়নের মুখে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে জাতিসংঘ ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

চীনের শিনজিয়াং প্রদেশে জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু উইঘুরদের ওপর দেশটির সরকারের দমন অভিযান সম্পর্কে মাহাথির বলেন, মালয়েশিয়া সব সময়ই আলোচনা, সমঝোতা ও আইনের মাধ্যমে সব সংঘাতের সমাধান চায়। তিনি বলেন, সেই জনগোষ্ঠীকে (উইঘুর) তাদের নাগরিক হিসেবে মর্যাদা দেওয়ার জন্যে আমাদের উচিত চীনকে বলা। আপনি যখন সংঘাতের পথ বেছে নেবেন তখন এর সমাধান পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। কেননা, সংঘাতের মাধ্যমে কোনো লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় না।