যাত্রাবাড়িতে সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্ব কিশোর খুন

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে এক কিশোর খুন হয়েছে। তার নাম রিফাত হোসেন বায়দুল (১৮)। এর আগে রিফাতের ছুরিকাঘাতে প্রতিপক্ষ গ্রুপের রাকিব নামে এক কিশোর আহত হয়। গতকাল রবিবার দুপুরে যাত্রাবাড়ীর শেখদি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় লোকজন জানান, রাকিবের বাবার নাম আয়নাল হক। গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের হুগলাকান্দি। তবে আয়নাল বর্তমানে স্ত্রী-ছেলেমেয়ে নিয়ে শনির আখড়ার স্বপন মৃধা সড়কে বসবাস করেন। চার ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে রিফাত তৃতীয় সন্তান। রিফাত অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে বাদ দিয়েছে। স্থানীয় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিত। এলাকায় একটি বখাটে গ্রুপের নেতৃত্বে ছিল সে। কোনাপাড়া এলাকার মহসিন নামে এক তরুণ তার বয়সে বড়। দক্ষিণ শেখদি এলাকায় মহসিনেরও একটি গ্রুপ আছে। এই গ্রুপের অন্যতম সদস্য রাকিব ও নাসিম। তারা রিফাতেরও বন্ধু ও সমবয়সী। সম্প্রতি মহসিন নিজেকে সিনিয়র হিসেবে মান্য করতে বলে রিফাতকে। কিন্তু রিফাত তা মানতে নারাজ ছিল। এ নিয়ে মহসিন ও তার গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল রিফাতের। গতকাল দুপুরে দক্ষিণ শেখদী ৫ নম্বর গলির সততা ফার্নিচার দোকানের সামনে মহসিন, রাকিব ও নাসিমের সঙ্গে ফের সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে তর্কে জড়ায় রিফাত। রিফাতের পক্ষেও দুই-তিন জন কিশোর উপস্থিত ছিল সেখানে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে রাকিবের পায়ে ছুরিকাঘাত করে রিফাত। এ সময় রাকিব ও তার পক্ষের কিশোর-তরুণরা রিফাতের বুকের ডান পাশে ছুরিকাঘাত করে। পরে তারা পালিয়ে যায়। বন্ধু ও স্বজনরা গুরুতর অবস্থায় রিফাতকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে লাশ মর্গে পাঠায়।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মাযহারুল ইসলাম বলেন, হামলাকারীরা ও নিহত রিফাত একই সঙ্গে চলাফেরা করত। এলাকায় বখাটে হিসেবে চিহ্নিত তারা। নিজেদের মধ্যে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে রিফাত খুন হয়েছে। খুনের আগে রিফাতের ছুরিকাঘাতে একজন আহত হয়েছে। সে কোন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে তা সন্ধান করা হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।

রিফাতের ছোটো ভাই রিমন হোসাইন জানান, মহসিন, নাসিম এবং রাকিব নামের তিনজন তার ভাইকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে। এর আগে রিফাতকে মোবাইল ফোনে তারা বাসা থেকে ডেকে নেয়। মহসিন স্থানীয় একটি কলেজে পড়ে। সে নিজেকে এলাকায় রিফাতের ‘বড় ভাই’ হিসেবে দাবি করত। কিন্তু এটি মানতে রাজি ছিল না রিফাত। এ নিয়ে রিফাতের সঙ্গে তাদের বিরোধ শুরু হয় বলে জানান রিমন। রিফাতের বন্ধু আব্দুর রহমান জানায়, সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে মাঝে মধ্যেই রিফাতের সঙ্গে মহসিনের তর্ক হতো। তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে আগে।