নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দারুল হুদা মহিলা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। ঐ মাদ্রাসার ছয় ছাত্রীকে ধর্ষণ ও পাঁচ ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গত শনিবার তাকে মাদ্রাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল রবিবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীর র্যাব-১১ এর প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক গত তিন বছর ধরে মাদ্রাসায় তার রুমে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানি করে আসছেন। তিনি ছাত্রীদেরকে কখনো আখিরাতের ভয় দেখিয়ে হুজুরের কথা শোনা ফরজ, না শুনলে গোনাহ হবে এবং জাহান্নামে যাবে এ রকম নানা ফতোয়া দিয়ে যৌন হয়রানি করতেন।
র্যাব জানায়, নির্যাতিত ছাত্রীদের কেউ মুখ খোলার চেষ্টা করলে তাদের একেক জনকে একেক অপবাদ দিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হতো। মোস্তাফিজুর বিভিন্ন বয়সি ছাত্রীদেরকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে, কখনো জোরপূর্বক ধর্ষণ করত। তিনি হুজুরের কথা শোনা ফরজ, না শুনলে গোনাহ হবে এবং জাহান্নামে যাবে এ রকম নানা ফতোয়ার মাধ্যমে, তাবিজ করে পাগল করা বা পরিবারের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে ছাত্রীদের ধর্ষণ করতেন বলে স্বীকার করেন। তিনি আট বছর বয়সি এক ছাত্রীকেও একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। ঐ ছাত্রীর মা-বাবার এ অভিযোগ ধর্ষক মোস্তাফিজ স্বীকার করেছেন।
এছাড়াও ধর্ষক মোস্তাফিজ বিভিন্ন জাল হাদিস তৈরি করে হুজুরের সঙ্গে সম্পর্ক করা জায়েজ আছে বলে ছাত্রীদের বোঝাতেন। একটি জাল হাদিসের মাধ্যমে অভিভাবক ও সাক্ষী ছাড়া বিয়ে হয় বলে একাধিক ছাত্রীকে কৌশলে ধর্ষণ করেন। আরেকটি জাল হাদিসের মাধ্যমে তালাক হয়ে গেছে ফতোয়া দিয়ে মাদ্রাসা থেকে বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে তাদের বের করে দিতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছয় ছাত্রীকে ধর্ষণ ও আরো পাঁচ ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানির কথা স্বীকার করেছেন তিনি। গ্রেফতার মোস্তাফিজের বাবার নাম ওয়াজেদ আলী। তার বাড়ি নেত্রকোনা জেলার সদর থানার কাওয়ালিকোনা গ্রামে। তিনি নিজেই ঐ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে মাদ্রাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।