গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রায়ই ঘটছে খুন, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা। টঙ্গীর দুই থানা এলাকাতেই ঘটছে এসব ঘটনা। এলাকার ব্যবসায়ীসহ নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। টাকা নিয়ে ঘর থেকে বের হলেই ছিনতাইকারীর কবলে পড়তে হচ্ছে। প্রকাশ্যে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে। গত ২২ জুলাই টঙ্গী পূর্ব থানার নতুনবাজার এলাকায় ভূঁইয়া টাওয়ারে শ্যামল গোল্ড ওয়ার্কস নামক একটি স্বর্ণের দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। ডাকাতেরা দোকান মালিকের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে স্বর্ণালংকার ও নগদ প্রায় দেড় লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। এ সময় ডাকাতের হামলায় দোকানের মালিক শ্যামল পোদ্দারসহ দুজন আহত হয়েছেন।
টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় গত ২৩ জুলাই কাজীপাড়া চন্দ্রিমা এলাকায় বাসায় ঢুকে তউসিফুল ইসলাম মুন্না (১৫) নামে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত মুন্না রাজধানীর মগবাজার বিএফ শাহিন অ্যাকাডেমির ছাত্র। এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন বা জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
গত ৭ জুলাই রাতে চুল কাটার জন্য সেলুনে যাওয়ার কথা বলে শুভ নামে এক কিশোর তার বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। সেলুনে চুল কাটার পর কিশোর গ্যাং গ্রুপের পাঁচ-ছয় জন সদস্য তাকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে বিসিকের একটি নির্জন রাস্তায় নিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হত্যার পর লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে না পারলেও র্যাব-১ এর সদস্যরা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় গত ২৯ জুন রাতে মাদক কেনাবেচার জের ধরে হোন্ডা রোড এলাকায় আবুল কালাম নামে একজনের সঙ্গে ইয়াসিন মোল্লা ও পারভেজের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আবুল কালাম ঐ দুই জনকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক ইয়াসিনকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের মধ্যে অর্ধশতাধিক ছিনতাইসহ একাধিক চুরির অভিযোগ থানায় জমা পড়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দিয়ে ফল পাওয়া যায় না।
অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যা হলেই শহরের কিছু কিছু এলাকা চলে যায় ছিনতাইকারীদের দখলে। টঙ্গী স্টেশন রোড, কামার পাড়া রোড, নিমতলী রেলগেট, মধুমিতা রেলগেট, টেলিফোন শিল্প সংস্থা গেট, এরশাদনগর, গাজীপুরা, শালিকচূড়াসহ শহরের বেশ কিছু অলিগলিতে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছিনতাই।
থানায় গিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার একজন দুঃখ করে বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে গিয়ে পুলিশের জেরার মুখে পড়তে চাই না। অভিযোগ লিখতে পুলিশকে দিতে হয় ৫০০ টাকা। এছাড়া, থানার ‘বড়ো স্যারকে’ রাজি করাতে যে টাকা দিতে হয় তার চেয়ে ছিনতাই হওয়া মালামাল ফেরত না পেলেই ভালো।
এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, জমি দখল, গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসা নিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে থাকে।
টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন জানান, ‘পূর্ব থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা আগের তুলনায় এখন অনেক ভালো। আমার থানায় ছিনতাইয়ের একাধিক কোনো অভিযোগ আসেনি’। টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি এমদাদ হোসেন জানান, ‘বিছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া পশ্চিম থানা এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘটনা নেই। আমরা ছিনতাইকারী ধরতে সক্রিয় রয়েছি’।