নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের পর্যটন নগরী পানাম ও বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন সড়কের বিভিন্ন জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হয়ে পানি আর কাদা মাটি জমে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সড়কের এ বেহাল দশার কারণে সোনারগাঁওয়ে বেড়াতে আসা শত শত পর্যটক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এ সড়কটি মেরামত করা হলেও কিছুদিনের মধ্যেই এ রাস্তায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। তাই এ সড়কটি পুনঃসংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সড়কটি এলাকাবাসী ও বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ পৃথক আবেদনের পরও কোনো ফল পায়নি। সোনারগাঁও পৌরসভার সাতটি ওয়ার্ড, সনমান্দী, বৈদ্যেরবাজার ও বারদি ইউনিয়নের জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র সড়ক এটি। সামন্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান পানি জমে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বিভিন্ন স্থানে বড়ো বড়ো গর্ত থাকায় ধীরগতিতে যানবাহন চলছে এতে ব্যস্ততম এ সড়কটিতে প্রতিদিন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ সড়কের পানি দিয়ে চলাচলে করতে গিয়ে রিকশা উলটে যাত্রী ও পর্যটকরা আহত হয়েছেন।
জানা যায়, সোনারগাঁও পৌরসভার চিলারবাগ থেকে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন পর্যন্ত সড়কটি সওজের অধীন রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করার কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে এলাকাবাসীর আন্দোলন ও বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ লিখিত আবেদনের পর কোনো ফল পায়নি এলাকাবাসী। গত পাঁচ মাস আগে সওজের প্রধান কার্যালয় থেকে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে সড়কটি দ্রুত মেরামত করার জন্য নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ওয়েস্টার্ন কনস্ট্র্রাকশন অ্যান্ড শিপ বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রের মাধ্যমে মেরামতের কার্যাদেশ পেয়ে অল্পকিছু জায়গায় নিম্নমানের ইট সুরকি দিয়ে কাজ সম্পন্ন করে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের প্রধান ফটক থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে বৃষ্টির পানি জমে আছে। ফলে এ সড়কে চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে এলাকাবাসী ও সোনারগাঁওয়ে ঘুরতে আসা পর্যটকদের। কাদা পানি মাড়িয়ে চলাচল করছে পর্যটকরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে এ সড়কের কয়েকটি স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে গত পাঁচ মাস আগে সড়কটি মেরামতের দুই মাস পরেই তা ভেঙে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়ে পানি জমে জনগণের চলাচলের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে জনগণের চলাচলের ব্যবস্থার জন্য দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
দিঘিরপাড় গ্রামের আবু সাইদ ও কাউসার মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি গর্তের সৃষ্টি হয়ে বৃষ্টির পানি জমে আছে। পানি মাড়িয়ে আসতে গিয়ে অনেক যাত্রী রিকশা থেকে পড়ে আহত হয়েছে। দ্রুত সড়কটি ড্রেনেজ ব্যবস্থা রেখে সংস্কার করে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করতে হবে।
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক রবিউল ইসলাম বলেন, সোনারগাঁয়ের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ অতি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ১৩ জুলাই বাংলাদেশে সফররত ওআইসির ৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন ও পানাম নগরী পরিদর্শন করতে এসে এ রাস্তার কারণে দুর্ভোগে পড়েন। এ রাস্তাটির কারণে প্রতিদিন দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে সোনারগাঁওয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। পর্যটকদের কথা চিন্তা করে এ সড়কটি সংস্কার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মতিয়ার রহমান বলেন, সড়কটিতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি দ্রুত সড়কটি ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ সংস্কার করা হবে।