সিরিজ হারল বাংলাদেশ

ম্যাচটা ছিল বাংলাদেশের সিরিজে টিকে থাকার ম্যাচ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে গতকাল রবিবার দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সিরিজ বাঁচানোর মতো ক্রিকেট খেলতে পারল না তামিম ইকবালের দল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ হারল তারা সাত উইকেটের ব্যবধানে।

ম্যাচে বাংলাদেশের একমাত্র প্রাপ্তি ছিল মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত ৯৮ রানের ইনিংস। এ ইনিংস খেলার পথে বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৬ হাজার রান পার করলেন এ উইকেটরক্ষক। এর আগে তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের পক্ষে ৬ হাজারের বেশি রান করেছেন।

মুশফিকের এ ইনিংসে ভর করে আট উইকেটে ২৩৮ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। জবাবে শ্রীলঙ্কা ৪৪.৪ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।

ছোট রানের লক্ষ্যে ছুটতে থাকা শ্রীলঙ্কাকে ভালো শুরু এনে দেন দুই ওপেনার। বিনা উইকেটে তারা করে ৭১ রান। ধীরে চলতে থাকা করুণারত্নেকে ১৫ রানে আউট করেন মিরাজ। আর আক্রমণাত্মক ওপেনার আভিষ্কা ফার্নান্দোকে ৮২ রান করার পর ফেরান মুস্তাফিজ। এরপর ৩০ রান করা কুশল পেরেরাকেও মুস্তাফিজ আউট করেন। শ্রীলঙ্কাকে বাকি পথটা নির্বিঘ্নে পার করে দেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ও কুশল মেন্ডিস। ম্যাথুস ৫২ রানে এবং কুশল ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে বাংলাদেশের ইনিংসটা ছিল স্রেফ মুশফিকময়। শেষ দিকে এসে মেহেদী হাসান মিরাজ ছাড়া আর কেউ সঙ্গ দিতে পারেননি মুশফিককে। শুরুতেই দলীয় ২৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১১ রান করে ফিরে আসেন সৌম্য সরকার। এরপর ১৯ রান করে ফেরেন তামিম ইকবাল। আবারও বোল্ড হয়ে ফিরলেন তামিম। এই নিয়ে টানা ছয় ইনিংসে বোল্ড হয়ে ফিরলেন এ বাঁহাতি ওপেনার।

এখানে এসে আকিলা ধনঞ্জয়া পরপর তুলে নেন দুই উইকেট। ১২ রানে মোহাম্মদ মিঠুন এবং মাহমুদউল্লাহ ছয় রানে ফিরে আসেন। এরপর অল্প রানে আরো দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

১১ রান করে সাব্বির রহমান রুম্মন রানআউট হন। আর ১৩ রান করে ফেরেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ৩১.৫ ওভারে ১১৭ রান তুলতে ছয় উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। আর এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ান মুশফিক ও মিরাজ। দুই জনে সপ্তম উইকেটে যোগ করেন ৮৪ রান। ৪৯ বলে ৬টি চারে সাজানো ৪৩ রানের ইনিংস খেলে মিরাজ আউট হওয়াতে এ জুটি ভাঙে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন মুশফিক।

শেষ দিকে তাইজুল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়েও মুশফিক লড়েছেন। শেষ ওভারটায় হিসাব করে ব্যাট চালালে হয়ত সেঞ্চুরিটা হয়ে যেত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঐ আফসোসটা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে। ১১০ বলে ৬টি চার ও একটি ছক্কায় ৯৮ রানে অপরাজিত ছিলেন মুশফিকুর রহিম।