ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জে রাতে জ্বলে না সড়কবাতি, বাড়ছে চুরি-ছিনতাই

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় গত দুই মাস ধরে রাতে জ্বলে না সড়কবাতি। এতে প্রতিনিয়ত চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিদ্যুতের তার ও মিটার চুরি হওয়ায় বর্তমানে ইন্টারচেঞ্জ এরিয়ার বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে ভাঙ্গা ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ বলছে, গত কয়েক বছরে একাধিক বার বিদ্যুতের বিল সময়মতো পরিশোধ না হওয়ায় ইন্টারচেঞ্জ এরিয়ার বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

সড়কবাতি বন্ধর কারণে প্রবেশদ্বারটি ভূতুড়ে এলাকায় পরিণত হয়েছে বলে দাবি করে ভাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাজী আব্দুল মান্নান বলেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে রাতভর সড়ক বাতি জ্বলে না। মাঝেমধ্যে জেনারেটর দিয়ে কিছু সময় সড়কবাতি জ্বলতে দেখা যায়। সড়কবাতি না জ্বলার কারণে সৌন্দর্য নষ্টের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত চুরি-ছিনতাইর ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে মিডিয়ায় সংবাদ প্রচারের পর কয়েক দিন বাতি জ্বলছিল। কী অজুহাতে আবারও দীর্ঘদিন কেন সড়ক বাতি বন্ধ রয়েছে, তার কোনো সদুত্তর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাচ্ছি না। আশা করি কর্তৃপক্ষ দ্রুতই সড়কবাতিগুলো জ্বালিয়ে ইন্টারচেঞ্জের আসল সৌন্দর্য রক্ষা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে।

ঢাকা থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা মুহিত ইসলাম বলেন, বিকালে মাইক্রোবাসে করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকা থেকে ঘুরতে এসেছি ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জ এলাকায়। আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। চারদিকে শুধু অন্ধকার। সড়ক বাতি বন্ধ থাকায় ইন্টারচেজের সৌন্দর্য না দেখেই চলে যেতে হচ্ছে।

ভ্রাম্যমাণ দোকানদার রনক দাস বলেন, সড়ক বাতি বন্ধ থাকায় দুই দিন আগে বাস থেকে নামতেই এক যাত্রীর ১২ হাজার টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। দূরে চিল্লাচিল্লি শুনছি, অন্ধকার থাকায় ভয় তাকে সাহায্য করতে কেউই এগিয়ে যায়নি। এছাড়াও মলম পার্টি ও শয়তানের নিশ্বাসের খপ্পরে পড়ে অনেকেই তাদের মূল্যবান জিনিস হারিয়েছে। কেউ কেউ তো অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকে, তখন স্থানীয় ভ্যান চালকেরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ভাঙ্গা পৌরসভার বাসিন্দা কাঠমিস্ত্রি কার্তিক সরকার জানান, শারদীয় দুর্গাপূজার ৮ম দিন তার শ্বশুর ভাঙ্গা গোলচত্বর দিয়ে পূজামণ্ডপে যাওয়ার সময় সড়কে বাতি না জ্বলার সুযোগে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে। পরে তাকে অসুস্থ অবস্থায় ফেলে যায় তারা।

ঢাকা ভাঙ্গা হাইওয়ে এক্সপ্রেসের সড়ক ও জনপথ বিভাগের (শ্রীনগর-মুন্সীগঞ্জ) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এম এম হানিফ জানান, ঢাকা-ভাঙ্গা হাইওয়ে এক্সপ্রেসয়ের ইন্টারচেঞ্জের বিদ্যুতের তার ও গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী প্রতিনিয়তই চুরি হচ্ছে। এতে পুরো এলাকায় সড়ক বাতিগুলো ঠিকমতো জ্বলে না। তবে এ সমস্যার সমাধানের জন্য কোম্পানির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন জানান, ‘ইন্টারচেঞ্জে পর্যাপ্ত আলো না থাকার জন্যই চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় গত দুই মাসে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব প্রতিরোধে ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় নিয়মিত সড়কবাতি জ্বালানো ও সিসিটিভির আওতায় আনা প্রয়োজন। আমরা ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে রাতে পুলিশের টহল আরও জোরদার করেছি।’

ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জ সাব-স্টেশনের নৈশপ্রহরী সিরাজ খান জানায়, ২০-২৫ দিন হলো স্টেশনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জমাদি পুড়ে গেছে। আপাতত জেনারেটর দিয়ে রাতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সড়ক বাতি জ্বালানো হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভাঙ্গা আবাসিক প্রকৌশলী (ওজোপাডিকো) সাইদুর রহমান জানান, গত কয়েক বছরে একাধিকবার বিদ্যুতের বিল সময়মতো পরিশোধ না হওয়ায় ইন্টারচেঞ্জ এরিয়ার বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। বর্তমানেও দুই থেকে তিন মাসের বিদ্যুৎবিল বকেয়া রয়েছে। তবে ইন্টারচেঞ্জ সাব-স্টেশনে তাদের বিদ্যুৎসংযোগ চালু আছে। কিন্তু কেন সন্ধ্যার পর রোড লাইট জ্বলছে না, সে বিষয়ে সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ জানেন।