নাব্যতা সংকটের কারণে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে গুপ্তছড়া ঘাটের কাছে কাদায় আটকে পড়েছে একটি ফেরি। ফেরিটিতে থাকা ২০টি যানবাহন এখনো আটকে আছে তবে ২৫ জন যাত্রীকে স্থানীয়ভাবে ‘লালবোট’ ও কাঠের নৌকায় করে তীরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ভোর ৫টায় বাঁশবাড়িয়া ঘাট থেকে যাত্রী ও গাড়ি নিয়ে গুপ্তছড়া ঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ফেরি কপোতাক্ষ। কিন্তু প্রায় এক ঘণ্টা পর গুপ্তছড়া ঘাটের কাছাকাছি একটি খালের মুখে এসে ফেরিটি চরের মধ্যে আটকে পড়ে। ঘাট কাছাকাছি হলেও ফেরি পন্টুনে ভিড়তে না পারায় যাত্রীদের স্পিডবোট, নৌকা ও লালবোটে করে কোনরকমে কূলে নামানো হয়। কিন্তু কূলে নামার পর কাদামাটির দীর্ঘ চর পেরিয়ে জেটিতে পৌঁছাতে গিয়ে নারী ও শিশুরা মারাত্মক দুর্ভোগে পড়ে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানায়, নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরিটি চলাচল করতে পারেনি। ফেরিটিকে পন্টুন পর্যন্ত নিতে জোয়ারের জন্য অন্তত ১২ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে।
সন্দ্বীপের বাসিন্দা মহব্বত আলী বলেন, ‘ফেরির জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষায় ছিলাম। নির্ধারিত সময়ের পরও ফেরি আসছিল না। এর মধ্যে তীরে ওঠা যাত্রীদের মাধ্যমে ফেরি আটকে পড়ার বিষয়টি জানতে পেরে স্পিডবোটে সীতাকুণ্ডের কুমিরা ঘাটে পৌঁছাই।’
ফেরির চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, যাত্রীদের নিরাপদে তীরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে ফেরিতে থাকা ২০টি যানবাহন ও পণ্য এখনো আটকে আছে। তিনি আরও বলেন, ‘জোয়ারের সময় হিসাব করেই ফেরি চালানো হয়, কিন্তু এখন ভাটার কারণে ফেরি সরানো যাচ্ছে না। ড্রেজিংয়ের অভাবে নাব্যতা সংকট দিন দিন বাড়ছে। কয়েক মাস ধরে ড্রেজিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবহিত করা হলেও হবে হবে করে ড্রেজিং করা হচ্ছে না।’
বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউর রশিদ খন্দকার বলেন, ‘আজ বিকেলের মধ্যে সন্দ্বীপ প্রান্তে ড্রেজার পৌঁছাবে বলে আশা করছি। কয়েক দিনের মধ্যেই ড্রেজিং শুরু হবে।’