নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে সোনালী ব্যাংকের একটি শাখায় গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত তদন্ত কমিটি।
গত ২৭ আগষ্ট দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইন সংস্করণে ‘ব্যাংক গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা নৈশপ্রহরী’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্তে নামে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সোমবার দিনব্যাপী কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখায় সরেজমিনে তদন্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই সদস্যের কমিটি। তদন্তকালে ব্যাংকের গ্রাহক, কর্মকর্তা, পলাতক নৈশপ্রহরী ফিরোজের বাবা কছির উদ্দিন এবং অভিযোগকারীদের সঙ্গে কথা বলেন কমিটির সদস্যরা।
তদন্ত শেষে কমিটির প্রধান ও বাংলাদেশ ব্যাংক রংপুর শাখার জয়েন্ট ডিরেক্টর হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, প্রাথমিকভাবে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তদন্ত কমিটির অপর সদস্য বাংলাদেশ ব্যাংক রংপুর শাখার সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ জোবায়ের। এ সময় নীলফামারী সোনালী ব্যাংক শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মো. সামিউল হাসানও উপস্থিত ছিলেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলেন।
তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখায় তদন্তে যায় কমিটি। সেখানে গ্রাহক আরজিনা বেগমের সঙ্গে কথা বলে এবং তার ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নৈশপ্রহরী ফিরোজ ওই শিক্ষিকার বেতন বাবদ জমা হওয়া ২৮ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন।
অপর গ্রাহক তহুজা বেগমের সঙ্গে কথা বলে এবং তার ব্যাংক হিসাবের বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে তদন্ত কমিটি জানতে পারে, ওই গ্রাহক সোনালী ব্যাংকের শাখাটিতে একটি এফডিআর করেছিলেন। এফডিআরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার হিসাবে টাকা জমা করে। পরে তার স্বাক্ষর করা চেকের মাধ্যমে ওই টাকা উত্তোলন করা হয়।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো গ্রাহক ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেননি বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান।
এদিকে নৈশপ্রহরী ফিরোজের ব্যাংক হিসাবেও অস্বাভাবিক লেনদেনের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি।
তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, পাওয়া তথ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

