মানবতার মহান সাধক, বাঙ্গালি দর্শনের মহানায়ক, আধ্যাত্মিক সাধনার প্রবাদ পুরুষ ও সমাজ সংস্কারক মহাত্মা লালন ফকির (১৭৭৪-১৮৯০) বাংলা মায়ের একজন ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ। বাংলা সাহিত্য, দর্শন, লোকসংস্কৃতি, ধর্ম-শাস্ত্র ও জীবন সাধনার এক অদ্বিতীয় মৌলিক নাম। ১৭৭৪ সালে তিনি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলার ছেউড়িয়ার চাপাড়ার ভাড়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। হিতকরী পত্রিকার বারত দিয়ে জানা যায় ১৮৮৯ সালের ১৭ অক্টোবর তিনি যখন মারা যান তখন তাঁর বয়স হয়েছিল ১১৬ বছর। সেই থেকে প্রতিবছর ১৭ অক্টোবর তাঁর তিরোধান দিবস স্মরণ করে কুষ্টিয়ার কালিগঙ্গা নদীর তীরে বসে মিলন মেলা। মনের মানুষকে খুঁজে পাওয়ার মিলন মেলা।
এবার প্রথমবারের মত ১৭ অক্টোবরকে কেন্দ্র করে ১৭-১৯ অক্টোবর, ২০২৫ জাতীয়ভাবে পালন করা হচ্ছে ১৩৫তম তিরোধন দিবস। এ লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়াতে ১৭-১৯ অক্টোবর এবং রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৮ অক্টোবর আয়োজন করা হয়েছে আলোচনা ও লালন ভাবগানের আসর। দিনে দিনে লালন ফকির দেশে ও দেশের বাইরের সকল ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে হয়ে উঠছে প্রাসঙ্গিক ও অবশ্যই উচ্চারিত নাম। সকল ধর্মের মানুষ কেন একত্রে লালন বা বাউল সাধনায় মগ্ন হচ্ছেন আর লালন ফকির হয়ে উঠছেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মহানায়ক হিসেবে।
সাধারণ অর্থে মনে হতে পারে তিনি একজন গীত রচয়িতা ও গায়ক মাত্র, কিন্তু আসলে কি তাই ? তাঁর গানে আমরা আমাদের জগৎ ও জীবন-সংসারের সকল উপাদান খুঁজে পাই। অর্থাৎ সৃষ্টি থেকে স্রষ্টা সব কিছুই স্থান পেয়েছে তাঁর গানে। এক কথায় বলা যেতে পারে লালন সাঁইজির ভাববাণীতে সর্বজনীন দর্শন ফুটে উঠেছে। সর্বজনীন কেন বলছি তা হয়তো বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব হবে না তবে তার একটি খণ্ডচিত্র আমরা তুলে ধরতে চেষ্টা করবো। সাধারণ অর্থে আমরা যদি জিজ্ঞেস করি দর্শন কি? তাহলে হয়তো তার উত্তর হবে আমরা চর্ম চক্ষু দিয়ে যা কিছু দেখি তাকে দর্শন বলি, কিন্তু তা প্রকৃত দর্শন নয়। যে কোন বিষয় আমরা দেখার পর আমাদের হৃদয় জগতে যে ভাবনা-চিন্তার উদ্রেক হয় তাকে দর্শন বলে। তেমনই সাধারণ কোন গান শুনলে আমাদের হৃদয় আপ্লুত হয়, গানের কথা আমাদের আকৃষ্ট করে আর ছন্দে দেহ দোলে। লালন সাঁইজির ভাববাণী অন্য গানের মত ক্রিয়া সৃষ্টি করার পাশাপাশি মনোজগতে অন্যরকম একটি ভাবনার সৃষ্টি করে যা মানুষকে সত্য, সুন্দর ও সরলতার সম্পর্কে ভাবিয়ে তোলে। এ মূল চেতনা মানুষকে সমাজের তথাকথিত ভেদা-ভেদের ঊর্ধ্বে তুলে মানবিক গুণাবলীর অধিকারী করে তুলতে সক্ষম হবে। শ্রী অন্নদাশঙ্কর রায় বাউল সম্পর্কে লিখেছেন- তাঁর সাধনা ধর্মীয় নয় মানবিক। সাধকরা পরমাত্মার সাথে নিবিড় সম্পর্ক চান, কিন্তু পরলোক সম্পর্কে উদাসীন। স্বর্গে যাওয়ার জন্য তাদের ব্যাকুলতা নেই, নরকে যাওয়ার ভয়ে তাঁরা ভীত নন। এই দেহ, এই জীবন আর এই মর্ত্যভূমি নিয়েই তাঁদের গানের জগৎ।
সব কিছুর উপর লালন মানুষকে প্রাধান্য দিয়েছেন। মধ্যযুগে এক সহজিয়া কবি চণ্ডীদাস রূপকের ছলে বলেছিলেন
“সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপর নাই।”
লালন ফকির রূপকের পর্দা তুলে স্পষ্ট করে বলেছেন-
“অনন্ত রূপ সৃষ্টি করলেন সাঁই
শুনি মানবের উত্তম কিছু নাই।”
বহু শতাব্দী জুড়ে মানুষ মানুষের বড়াই না করে, মানবিকতার বড়াই না করে, করেছেন ধর্মের বড়াই । লালন দর্শনও একথা মানুষের কাছে প্রমাণ করেছে মানবিকতাই মানুষকে শ্রেষ্ঠ করতে পারে। কোন মুসলিম যেমন নিশ্চিত করে বলতে পারবেনা ইসলাম ধর্মে জন্মগ্রহণ করলে বেহেস্ত নিশ্চিত, হিন্দু ধর্মে জন্মগ্রহণ করলে বলতে পারবেনা স্বর্গ নিশ্চিত, খ্রিস্টান ধর্মে বা বৌদ্ধ ধর্মে জন্মগ্রহণ করলেও বলতে পারবেনা হ্যাভেন নিশ্চিত বরং যে কোন ধমের্ই জন্মগ্রহণ করলে সে যদি প্রকৃত মানবিক মানুষ হতে পারে, তার দ্বারা যদি মানুষের কল্যাণ সাধিত হয়, তাহলে তার পরিণতি ইহকালে বা পরকালে কি হবে তা আমাদের সকলেরই জানা। তাইতো সাঁইজি বলেছেন-
“মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপারে তুই মূল হারাবি
মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।”
বাউলের এ দর্শন কিভাবে সার্বজনীন রূপ লাভ করেছে? প্রথমত এ উপমহাদেশে হিন্দু ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম ও ইসলাম ধর্মের প্রাধান্য লক্ষণীয়। সকল ধর্মের মানুষই মনে মনে বা প্রকাশ্যে বোঝাতে চায় তার ধর্মই শ্রেষ্ঠ, আর এ নিয়ে তৎকালীন থেকে বর্তমান সময়ে রক্তপাত ও জীবননাশের ঘটনা ঢের ঘটে চলেছে। প্রতিটা ধর্মের আচার ও সংস্কৃতি ভিন্ন হলেও দর্শন মূলত এক। আর এটা না বুঝেই আমরা গোল বাঁধিয়ে ফেলি। এই মহাগোলযোগ থেকে মানব জাতিকে ত্বরাতে বাউল সম্রাট লালন ফকির সকল ধর্মের প্রবর্তক, অবতার ও মহান ব্যক্তিদের মহৎ কর্ম তার ভাববাণীর দর্শনে ফুটিয়ে তুলে সকল শ্রেণী-পেশা ও জাতি-ধর্মের মানুষের মাঝে এক মহামিলন ঘটিয়েছেন। লালন ফকির নিজ ধর্মের পরিচয় দেননি অথচ সকল ধর্মের মহত্মকে তুলে ধরেছেন।
“রবেনা এ ধন জীবন ও যৌবন
তবে কেন মন এত বাসনা।”
এ অন্তরার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মের রামায়ণ, মহাভারত তথা সত্য, ত্রেতা ও দাপর যুগের মহিমাকে তুলে ধরা হয়েছে।
“কর্ণরাজা ভবে বড় দাতা ছিল
অতিথি রূপে তার পুত্রকে নাশিল।”
এখানে মহাভারত তথা দাপর যুগে দাতাকর্ণ তার পুত্রকে অতিথির মনোবাঞ্ছা পূরণ করার জন্য বলি দিয়েছেন সে ঘটনাচিত্র লালন ফকির বর্ণনা করেছেন।
“প্রহলাদ চরিত্র ছিল দৈত্য ধামে
কত কষ্ট পাইলো সেই হরি নামে
তাকে জলেতে ডুবাইলো আগুনে পোড়ালো
তবু না ছাড়িলো সে শ্রী নাম সাধনা।”
এই অন্তরায় আমরা দেখতে পাই লালন ফকির সত্য যুগে দৈত্য রাজা হিরন্যকসিপুর পুত্র প্রহলাদ তার পিতার ধনভাণ্ডারের প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে শ্রী হরির আরাধনা করেছেন এবং তার জন্য তাকে পানিতে ডোবানো হয়েছে হত্যা করার জন্য, হাতির পায়ের নিচে দেওয়া হয়েছে ,অগ্নিকুণ্ডের মধ্যে নেওয়া হয়েছে পোড়ানোর জন্য, কিন্তু তার ভক্তি ও প্রেমের জোরে শ্রী হরি ভবে সর্বত্র রক্ষা করেছেন তাকে।
আবার একই গানের অন্তরায় রামায়ণের অপর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে-
“রামের ভক্ত লক্ষণ ছিলো সর্বকালে
শক্তিশেল হানিল তাঁর বক্ষস্থলে
তবু রামচন্দ্রের প্রতি লক্ষণ না ছাড়িল ভক্তি
লালন বলে কররে সে বিবেচনা।”
শ্রী রামের সৎ ভাই লক্ষণ তার ভ্রাতা রামের প্রতি এতই অনুগত ছিলেন যে, শত কষ্ট ও অনিবার্য মহাবিপদ জেনেও কখনও পিছপা হননি। লালন গানে ভক্তিবাদের এই মহত্ম সনাতন ধর্মের মানুষকে দারুণভাবে বাউল মতবাদে বিশ্বাসী ও দীক্ষিত করেছে।
লালন ফকিরের দয়াল নিতাই কাউকে ফেলে যাবেনা, তিন পাগলে হলো মেলা নদে এসে। তোরা কেউ যাসনে ও পাগলের কাছে, সেই কালাচাদ নদে এসেছে সনাতন ধর্মের ভক্তিবাদের এমন সব বাণী যে মানুষ রচনা করেছেন সেই একই মানুষ অন্য একটি বাণীতে যখন গেয়ে উঠলেন-
“এলাহী আলমিনগো আল্লাহ বাদশা আলমপনা তুমি।”
মহতী এ বাণীর মাধ্যমে সুফিবাদ বা ইসলামের গুণকীর্তন করা হয়েছে।
“নূহ নামে এক নবিরে ভাসালে অকূল পাথারে
আবার তারে মেহের করে অপনি লাগাও কিনারে
জাহের আছে ত্রিসংসারে আমায় দয়া করো স্বামী
নিজাম নামে পাপী সে তো পাপেতে ডুবিয়া রইত
তাঁর মনে সুমতি দিলে কুমতি তার গেলো চলে
আউলিয় নাম খাতায় লিখলে জানা গেল এই রহমী ”
নূহ নবী থেকে শুরু করে নিজামউদ্দিন আউলিয়া পর্যন্ত একাধিক নবী ও আউলিয়াদের মহৎ কর্মকাণ্ড ও ইসলামের আলোকিত দিকের বর্ণনা লালনের অসংখ্য গানে ফুটে উঠেছে।
“আহাদে আহমদ নাম হয় জগতে
কে পারে মকর উল্লার মকর বুঝিতে”
“রাসুলের দিন সত্য মানো
ডাক কেবল আল্লা বলে।”
সাঁইজির ভাবনাতে সুফিবাদ ও ইসলামের আদর্শগত দিকগুলো ইসলামী ভাবাদর্শের মানুষকে বাউল দর্শন, বাউল গান ও বাউল মতে প্রভাবিত ও বাউল জীবনাচারে বিশ্বাসী করেছে।
শুধু প্রধান দুই ধর্ম- হিন্দু ও ইসলাম ধর্ম অনুসারীদের নয়; বৌদ্ধ সহজিয়াদের যে দেহতান্ত্রিক সাধনার ধারা আমরা জানতে পাই, ঠিক তেমনই বাউলরা দেহতান্ত্রিক সাধনায় খুব বেশী মনোযোগ ও প্রাধান্য দিয়ে থাকে।
বাউলের-
“ধন্য ধন্য বলি তাঁরে
বেঁধেছে এমনই ঘর
শূন্যের উপর পোস্তা করে
ঘরের মূলাধার কুঠুরি নয়টা
তার উপরে চিলে কোঠা
তাহে এক পাগলা বেটা
বসে একা একেশ্বরে ”
ঘরে নিচে উপর সারি সারি
সাড়ে নয় দরজা তারি
লালন কয় যেতে পারি
কোন দরজা খুলে ঘরে ”
বাউলগানের এই দেহকেন্দ্রীক সাধনা, চিন্তা-ভাবনা ও জীবনাচার দেখে বৌদ্ধ সহজিয়াপন্থিরা মনে করে থাকেন বাউলের আদি মূলত চর্যাপদের কবিদের মাধ্যমে সাধিত হয়েছে। এই যুক্তি-তর্ক, বাউল ও বাউল গানের উৎস বা উৎপত্তি নিয়ে নানা মতভেদ গবেষকদের মধ্যে প্রচলিত আছে, তবে মোদ্দা কথা হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মের মানুষ বাউল সাধনাকে তাদের নিজ ধর্ম সাধনার অংশ মেনে লালন দর্শনকে নিজ জীবনের ভাবাদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
লালন ফকির তাঁর সাধনগীত বা ভাববাণীতে প্রধান প্রধান ধর্মের মহতী দিক নিয়ে চিন্তা করেছেন আর তার প্রতিফলন ঘটেছে বাউলগান ও বাউলের জীবনাচারে শুধু তাই নয়। প্রধান প্রধান ধর্মের বড় অংশের মানুষের ক্ষুদ্র-বৃহৎ ভালো দিক যেমন আলোচিত, চর্চিত ও প্রচারিত হয়েছে ঠিক তেমনই কোন ছোট ধর্মের মহত্ত্ব ও লালনের ভাববানীতে স্থান দিতে কার্পণ্যবোধ করেননি। লালন ফকিরের জীবদ্দশায় সতি-মাতা নামে একজন সত্য ধর্মের প্রচারক ছিলেন তাদের ধর্মের উপজীব্য বিষয় নিয়ে, দর্শন নিয়ে রচিত হলো সাঁইজির সর্বকালের সর্ব মানুষের সার্বজনীন কল্যাণের এক মহাবাণী-
“সত্য বল সুপথে চল ওরে আমর মন
সত্য সুপথ না চিনিলে পাবিনা মানুষের দরশন।”
এটা শুধু লালনের ভাববাণীর ভিতর দিয়ে সতী মাতার সত্য ধর্মের মূল দর্শনকে তুলে ধরা হয়েছে এমন নয় বরং এটাই পৃথিবীর সকল ধর্মের মূল দর্শন।
লালন ফকিরের ভাববাণী বা দর্শনে যেমন সকল ধর্মের মর্মবাণী ও মানব কল্যাণের দিককে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়েছে ঠিক তেমনই সকল ধর্মের মানুষের নিকট বাউল দর্শন সার্বজনীনভাবে গৃহীত হয়েছে। বাউল দর্শনে মনে করা হয় ধর্মের মাধ্যমে সৃষ্ট শ্রেণী-বৈষম্য, জাতিভেদ, ধনী-দরিদ্রের যে ধুম্রজাল সৃষ্টি করা হয়েছে তাতে বাউলদের ধর্মের প্রতি, সমাজের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হয়েছে। এ অসন্তোষ ঠেকাতে বাউল গানের মাধ্যমে সমাজে বিদ্যমান বৈষম্যে-দূরীকরণে আঘাত হানা হয়েছে এভাবে-
“সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে
লালন কয় জাতের কি রূপ দেখলাম না এই নজরে
সুন্নত দিলে হয় মুসলমান নারীলোকের কী হয় বিধান
বামন চিনি পৈতে প্রমাণ বামনী চিনি কিসেরে
হিন্দু আর মুসলমান, উঁচু আর নিচু- এ নিয়ে চিরকাল সমাজে যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয় তার অবসান ঘটানোর মহামন্ত্র লালন ভাববাণী। লালনের আত্মতত্ত্বে আত্মার দর্শন, দেহতত্ত্বে মানব মুক্তির দর্শন, সৃষ্টিতত্ত্বে তুলনা মূলক দার্শনিক পর্যালোচনা, মনুষ্যত্বতে মানবতাবাদী দর্শন, সাধনতত্ত্বে আপেক্ষিক দর্শন এভাবে বিভিন্ন তত্ত্বের মাধ্যমে সকল অন্তর্নিহিত দর্শনকে অন্তরমূলে নিয়ে কথা সজিয়ে সুর ও ছন্দে গানে গানে সহজে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছেন। যে কেউ এটাকে গান আকারে শুনে, কেউ কবিতা আকারে পড়ে, কেউ গবেষণা করে বা সাধন পদ্ধতি মনে করে গ্রহণ করেছেন নিজ জীবনের ভাবাদর্শ হিসেবে। শিক্ষিত বা অশিক্ষিত সকল মানুষের নিকট এটা সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে ৬৪ কলার শ্রেষ্ঠ কলা সংগীতের মাধম্যে দর্শন প্রচারিত হওয়ায়। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, আমেরিকার ক্যারল সলোম্যান থেকে জাপানের অধ্যাপক মাসাহিকো তগোয়া, ফ্রান্সের দেবোরাহ জান্নাত আর ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব অধ্যাপক মুচকুন্দ দুবে যেভাবে লালন দর্শনে প্রভাবিত হতে শুরে করেছেন তাতে আমদের স্বপ্ন একদিন সারাবিশ্ব লালন ও বাউল দর্শন দ্বারা প্রভাবিত ও পরিচালিত হবে।
লেখক: লালন গবেষক