আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করার দাবিতে মশাল মিছিল করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের(জবি) শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাত আটটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্ত্বর থেকে থেকে মশাল মিছিলটি শুরু হয়। এরপর ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে বাহাদুর শাহ পার্ক, শাঁখারি বাজার, রায়সাহেব বাজার ঘুরে এসে ক্যাম্পাস সংলগ্ন 'বিশ্বজিৎ চত্বরে' সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা, 'জাগো বাহে, কোনঠে সবাই', 'পানি আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার', 'তিস্তা আমার অধিকার, ছিনিয়ে নেওয়ার সাধ্য কার', 'তিস্তা নিয়ে টালবাহানা চলবে না, চলবে না', ' করো তিস্তা চুক্তি, আমাদের দাও মুক্তি ', 'তিস্তা শুকিয়ে গেলে, কৃষক কাঁদে ঘরে ঘরে' 'ভারত যদি বন্ধু হও, ন্যায্য পানির হিস্যা দাও'-সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রংপুর জেলা ছাত্র কল্যাণের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের তিস্তা পাড়ের মানুষের ভোগান্তি লাঘব হয়না। ভারতীয় আগ্রসনের কারণে ধ্বংস হচ্ছে তিস্তার মাইলের পর মাইল ফসলি জমি। উত্তর বঙ্গের মানুষের জীবিকা হুমকের মুখে পড়েছে। এক আবু সাইদ রক্ত দিয়েছে, দাবি আদায়ে আমরা লাখো আবু সাই রক্ত দিবো।'
রংপুর জেলা কল্যাণের সভাপতি মোঃ সোহাগ মন্ডল বলেন, 'আমি সেই বাবার সন্তান যার ফসলি জমি ছয় মাস পানির নিচে থাকে। আমি সেই মায়ের সন্তান যে মা সন্তানদের মুখে খাবার না তুলে দিতে পেরে মুখ লুকিয়ে কান্না করে। আমরা ১০৫ কি.মি. হেঁটেছি, দাবি আদায়ের জন্য ঢাকা টু রংপুর আমরা ৩৫০ কি.মি. ও হাঁটতে পারবো। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে হবে।'
জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, 'তিস্তা মহাপরিকল্পনা তিস্তার পাড়ের মানুষের প্রাণের দাবি। ফ্যাসিস্ট আমলে হাসিনা সরকার তিস্তা নিয়ে কোনো কাজ করে নাই। এখন উত্তরবঙ্গের মানুষের কষ্ট লাঘব করার সময় এসেছে। নির্বাচনী তফশিল ঘোষণার আগেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করার আহ্বান জানাই।'