ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে ছেলেধরা সন্দেহে আটক তিন জনকে উদ্ধার করে গণপিটুনির হাত থেকে রক্ষা করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুই জনকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এক জনকে আদালতের মাধ্যমে নিরাপত্তা হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানান, ২৫ জুলাই বিকালে হরিণাকুন্ডু উপজেলার রামনগর সোনাতনপুর এলাকায় এক ব্যক্তিকে এলোমেলোভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে ছেলেধরা সন্দেহে এলাকাবাসী তাকে আটক করে। গণপিটুনি দেওয়ার আগে এক জনের ফোনে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ। তাকে উদ্ধার করে সোনাতনপুর পুলিশ ক্যাম্পে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার নাম মো. জয়নাল আবেদীন, পিতা শেখ কাশেম আলি, গ্রাম বালিদিয়া, থানা ত্রিশাল, জেলা ময়মনসিংহ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। এক বছর আগে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও পাওয়া যায় না। তার স্ত্রী পারুল বেগম হরিণাকুন্ডু থানায় আসে। তার কাছে জয়নাল আবেদীনকে হস্তান্তর করা হয়।
একই দিন মহেশপুর উপজেলার ডালভাঙ্গা গ্রাম থেকে ছেলেধরা সন্দেহে স্থানীয় লোকজন এক ব্যক্তিকে আটক করে। বিজিবির মাধ্যমে খবর পেয়ে মহেশপুর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ঠিকানা জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান নাম মো. জাফর আহমেদ, পিতা মো. আনসার আলি, গ্রাম মেহেন্দীনগর, থানা শ্যামনগর, জেলা সাতক্ষীরা। উক্ত ব্যক্তির চাচা অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মজিদের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে জাফর আহম্মদ একজন মানসিক রোগী। বর্তমানে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পুরন্দপুর গ্রামে ছোটো ভাইয়ের বাসায় থাকেন। মাঝেমধ্যে কাউকে না জানিয়ে এদিক ওদিক চলে যান। ২৪ জুলাই বাড়ির কাউকে না জানিয়ে চলে যান। তাকে পুলিশ ছোটো ভাই জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে হস্তান্তর করে।
২৭ জুলাই সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী রেল ক্রসিং এলাকায় এলোমেলোভাবে এক ব্যক্তিকে ঘোরাফেরা করার সময় ছেলেধরা সন্দেহে স্থানীয় লোকজন আটক করে। কোনো এক ব্যক্তি ফোনে পুলিশকে জানায়। পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছে ঐ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার নাম টুটুল, পিতা জুফরান, গ্রাম উদয়ন। আর কিছু বলতে পারেন না। তাকে আদালতের মাধ্যমে নিরাপত্তা হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে পুলিশ জেলা সর্বত্র ছেলেধরার মিথ্যা গুজব রটনার বিরুদ্ধে জনসচেতনতামূলক প্রচার অভিযান চালাচ্ছে। প্রতিদিন স্কুল কলেজে ও হাটবাজারে সমাবেশ করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।