জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
আহসান জোবায়ের, জবি সংবাদদাতা
ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ কলেজ থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পার হলেও মৌলিক কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কেরানীগঞ্জে নতুন ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের মাধ্যমে সকল সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে জবির বর্তমান সংকট নিরসনে দায়সারা ভাব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। যে কোনো সমস্যাকেই নতুন ক্যাম্পাসে বাস্তবায়নের অজুহাতে সমাধানের কথা বলে দায় সারছে প্রশাসন। এতে করে বর্তমান ক্যাম্পাসের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, কমেছে কর্মকর্তাদের কাজের গতি।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, কলেজ থেকে কোনো প্রকার অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়াই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। কেরানীগঞ্জে নতুন ক্যাম্পাস হলে এর কাঠামোগত পূর্ণতা আসবে। তখন সকল সমস্যার সমাধান করা যাবে। এখন আমরা কোনো সমস্যার সমাধান নিয়ে ভাবছি না। ছোটখাটো সমস্যা সমাধানের জন্য কয়েকটি কমিটি রয়েছে, তারাই দেখবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় হলেও প্রবেশপথে এখনো সেই কলেজ আমলের ফটক। সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের পাশে নতুন একটি ফটক নির্মানের আশ্বাস দিলেও সেই উদ্যোগ থেকে অজানা কারণে সরে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মাত্র ১৯টি বাস দিয়েই চলছে একট্রিপে শিক্ষার্থীদের আনা নেওয়ার কাজ। পরিবহন সুবিধা পাচ্ছে মাত্র ১০% শিক্ষার্থী। পরিবহনের দাবিতে বেশ কয়েকবার আন্দোলন করেও কোনো সুফল পায়নি শিক্ষার্থীরা। কয়েকটি রুটে পরিবহন যোগ করলেও মাস না যেতেই বিকল হয়ে পড়ে। এক রুমের মেডিক্যাল সেন্টার ও একজন চিকিত্সক দিয়েই চলছে শিক্ষার্থীদের চিকিত্সাসেবা। শুধু ব্যবস্থাপত্র লিখে দিয়ে বাইর থেকে ওষুধ কিনে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ডাক্তার। গত বছরের জুলাইয়ে স্বাস্থমন্ত্রী জবি ছাত্রলীগের এক সমাবেশে মেডিক্যাল সেন্টারের জন্য আধুনিক যন্ত্রাংশ কিনে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক সবগুলো ভবনই যেন মৃত্যুফাঁদ। প্রশাসনিক ভবন, বিজ্ঞান ভবন, ভাষা শহীদ রফিক ভবন, কলাভবনসহ বেশকিছু ভবনের দেয়াল ও ছাদে বড়ো বড়ো ফাটল রয়েছে। কলাভবন ও বিজ্ঞান অনুষদের চারটি ভবনের অবস্থা জরাজীর্ণ। ধস আতঙ্কের মাঝেই কাজ করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, ক্লাস করেন শিক্ষার্থীরা। নতুন ভবনের বিভিন্ন বিভাগের সাত হাজার শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে একটি লিফট। সিঁড়ি বেয়ে উঠতে গিয়ে প্রতিদিনই অসুস্থ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। নতুন দুটি লিফট বসানোর আশ্বাস দিলেও এর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। আট বছর ধরে চলা ছাত্রী হলের কাজ ২০১৯ সালের জুলাইয়ের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও তা শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় তীব্র শ্রেণিকক্ষ সংকটে রয়েছে বিভাগগুলোতে।
সার্বিক বিষয়ে জবির রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, এসব সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তাঁরা কাজ করছেন। তারপরও আমরা যে কোনো সমস্যার কথা শুনলে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করি।