সরকারের কড়া নজরদারি ও কঠোর নিয়ম-বিধির পরও হজযাত্রীদের সঙ্গে অসাধু হজ এজেন্ট এবং দালালদের প্রতারণা থামছে না। হজের জন্য টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভিসা করছে না তারা। এছাড়া কোন কোন এজেন্ট যাত্রীদের টিকিট কাটছে না। এমনকি মক্কায় ও মদিনায় বাড়ি ভাড়ার ‘মোফা’ সংগ্রহ নিয়েও প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে তারা। কোন কোন হজযাত্রী কাফেলাকে আশকোনার হজ ক্যাম্পে আনার পর লাপাত্তা হয়ে যাচ্ছেন এজেন্টরা। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। প্রতারণা আর অনিশ্চয়তার কারনে হজক্যাম্প থেকে প্রতিদিনই কান্নার আওয়াজ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব (হজ) এস এম মনিরুজ্জামান জানান, প্রতিদিনই আমরা অভিযোগ পাচ্ছি। আমরা বার বার এজেন্সিগুলোকে হজযাত্রীর নির্ধারিত ফ্লাইটের এক সপ্তাহ আাাগে ভিসা করার নির্দেশ দিয়েছি। তারপরেও কিছু এজেন্সি গাফিলতি করছে। আজ মঙ্গলবারের মধ্যে যাদের ভিসা করা বাকি থাকবে সেইসব এজেন্সির বিরুদ্ধে আমার সরাসরি অ্যাকশনে যাবো। এদিকে গতকাল ৭০ জন হজযাত্রীর টাকা মেরে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে শামসুদ্দিন তোহা নামে এক এজেন্সি মালিক। গতকাল সোমবার দুপুরেগোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে। গতকাল সকাল থেকেই ‘স্বদেশ ওভারসীস’ এবং ‘বিদেশ ভ্রমণ’ নামের দুটি হজ এজেন্সির মোট ৭০ জন হজযাত্রী হজক্যাম্পে এসে জড়ো হন। তারা সব টাকা পরিশোধ করার পরেও ভিসা পাচ্ছেন না বলে নালিশ জানান ক্যাম্পের পরিচালকের কাছে । পরে তাদের সঙ্গে আসা গ্রুপ লিডার আমিরুল ইসলাম, রাকিবুর ইসলাম, আবুল হাসনাত ও হেমায়েত উদ্দিনকেও আটক করা হয়। তবে প্রতারণার মূল সহযোগী বাপ্পী নামের একজনকে প্রথমে আটক করা হলেও পরে তিনি কৌশলে হজ ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যান। এদিকে অভিযুক্ত এজেন্সি দুটির মালিককে গ্রেফতার করতে পুলিশ, র্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নিচ্ছে হজ অফিস। এই ৭০ হজযাত্রীর হজযাত্রা এখনো অনিশ্চিত। আজকের মধ্যে তাদের ভিসা করতে হবে। এজেন্সি মালিক এখনো এই হজযাত্রীদের মক্কায় ও মদিনায় বাড়ি ভাড়ার ‘মোফা’ সংগ্রহ করেনি। আর মোফা না হলে ভিসা দেয় না সৌদি সরকার। ঢাকা হজ ক্যাম্পের পরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতারক দুটি এজেন্সির এখনো ৬০ জনের বেশি হজযাত্রী ভিসা পাননি। তারা হজক্যাম্পেই অবস্থান করছেন। গতকাল সকালে পাঁচজনকে আমরা আটক করেছি, একজন পালিয়ে গেছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়, হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) ও হজযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অন্য বছরের তুলনায় এবার হজযাত্রীদের প্রতারণা তুলনামূলক কম।
হাবের সভাপতি শাহাদাত হোসেন জানান, প্রতারিত হজযাত্রীদের পাশে আছে হাব। এপর্যন্ত হাব এর ব্যবস্থাপনায় প্রতারণার শিকার ১০০ জনের বেশি হজযাত্রীকে সৌদি আরব পাঠানো হয়েছে।
এদিকে আসন্ন পবিত্র হজ পালনে গতকাল রাত পর্যন্ত সৌদি আরব পৌঁছেছেন এক লাখের বেশী হজযাত্রী। মক্কা থেকে প্রকাশিত হজ বুলেটিন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে ১০ আগস্ট। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হজ এজেন্সির সংখ্যা ৫৯৮টি।