মোটরবাইকে করে রোজকার মতো শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে শহরের দুই নম্বর গেট থেকে কাশিপুরের বাংলাবাজার এলাকায় বাড়ি ফিরছিলেন সুভাষ নামে এক যুবক। পথিমধ্যে পশ্চিম দেওভোগ হাসেম বাগ এলাকায় তার মোটরবাইকের হেডলাইটের রশ্মি গিয়ে পড়ে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা একদল সন্ত্রাসীর চোখে। ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সন্ত্রাসীরা। বাইকচালক সুভাষের দিকে তেড়ে যায় তারা। লিপ্ত হয় তর্কে। এক পর্যায়ে সুভাষকে চড় থাপ্পর মারতে শুরু করে সন্ত্রাসীর দল। এক পর্যায়ে তারা আরো বেশি উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে শুভাষকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এমন বিভত্স দৃশ্য দেখে আক্রান্ত যুবককে রক্ষা করতে এবং সন্ত্রাসীদের নিবৃত্ত করতে এগিয়ে আসেন আশপাশের কয়েকজন সাধারণ যুবক। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে সন্ত্রাসীরা এবং ওই যুবকদের এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। এতে শাকিলসহ ৮ যুবক আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও স্থানীয় ক্লিনিকে প্রেরণ করা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর শাকিলের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু হাসপাতালে নেয়ার পথেই তিনি মারা যান। নিহত শাকিল দেওভোগ পূর্ব নগর এলাকার মৃত আমান উল্লাহর ছেলে।
এখন প্রশ্ন হলো-কারা ওই হামলাকারীরা? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হামলাকারিরা গতবছর ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত সন্ত্রাসী হাসানের বাহিনীর ক্যাডার। এই বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কামান্ড হচ্ছে মাদকের ডিলার হিসেবে পরিচিত তুহিন। এছাড়াও রয়েছে নিক্সন, চান্দু, পাবেল, মাইকেল, ডেবিট, হিটলার, অমিসহ হাসান বাহিনীর আরো কয়েকজন সক্রিয় সদস্য। তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আমবাগান, বাংলাবাজার, পশ্চিম দেওভোগ মাদরাসা রোডের হাসেম বাগসহ আরও কয়েকটি এলাকা। মূলত এরাই সংঘবদ্ধভাবে শনিবার রাতে হাসেম বাগের নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করে।
এর আগে সন্ত্রাসী হাসান ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার পর নিজেদের শক্তি জানান দিতে হাসানের বাহিনীর সদস্যরা চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি একই কায়দায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায় আমবাগান এলাকায়। সেদিন তারা এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে অন্তত ১৩ জনকে জখম করেছিলো। এদিকে শনিবার রাতের ঘটনায় রবিবার ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মাদক ব্যবসায়ী তুহিন, নিক্সন ও চান্দুর নাম উল্লেখসহ বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন নিহত শাকিলের বড় ভাই সাহিদ হোসেন। ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মো. আসলাম হোসেন জানান, তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর সদর উপজেলার শহীদ নগরে র্যাব-১১ এর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী হাসান। তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা, তিনটি অস্ত্র, ডাকাতি ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত বিশটি মামলা ছিল। সবকটি মামলায় সে পলাতক ছিল। নিহত হাসান শহরের দেওভোগ পানির ট্যাঙ্কি এলাকার মৃত ইয়াছিন মিয়ার ছেলে।