বাসযোগ্য শহরের জন্য পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিয়ে আলোচনা

বিশ্ব শহর দিবস উপলক্ষে ‘বাসযোগ্য শহরের জন্য পরিবেশগত স্থায়িত্ব: ঢাকা প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করেছে পরিবেশবিদ ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ। 

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সেমিনার হলে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজনে মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য ও গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন পরিবেশবিদ ইনস্টিটিউটের উপদেষ্টা ও লিডিং ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য স্থপতি অধ্যাপক ড. কাজী আজিজুল মওলা। সেমিনারে আলোচক হিসেবে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পরিবেশবিদ ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক স্থপতি মো. মাহমুদুর রহমান পাপন, সংগঠনটির উপদেষ্টা ও হাউজ বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মুখ্য গবেষণা কর্মকর্তা স্থপতি মো. নাফিজুর রহমান।

সেমিনারের স্পনসর বিএসআরএম-এর পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী সৌমিত্র কুমার মুৎসুদ্দি। তিনি তার কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে ভিন্ন দেশের নগরী ও বাংলাদেশের নগরীগুলোর প্রেক্ষাপট তুলনা করেন। মাহমুদুর রহমান পাপন তার উপস্থাপনায় ঢাকাকে একটি সবুজায়ননির্ভর ও টেকসই ল্যান্ডস্কেপ শহর হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

নগর পরিবেশ রক্ষায় রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট, গ্রিন প্রোডাক্ট ও রিসাইক্লিং কার্যক্রমের সমন্বিত প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন স্থপতি নাফিজুর রহমান। মূল বক্তা স্থপতি ড. কাজী আজিজুল মাওলা তার বক্তব্যে বলেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে জনসংখ্যা নয়, বরং জলাবদ্ধতা, দূষণ ও নগর সেবার অব্যবস্থাপনাই প্রধান বাধা।

একটি শহরের টেকসই উন্নয়নের জন্য আয়তন ও জনসংখ্যার মধ্যে ভারসাম্য থাকা জরুরি বলে জানান পরিকল্পনাবিদ ড. আকতার মাহমুদ। অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে ঢাকার অবকাঠামো ও পরিবেশের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে শহরটি ধীরে ধীরে তার বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে বলেও অভিমত তার।

সাবেক সচিব ড. সুলতান আহমেদ তার বক্তব্যে কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে নগর উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষার নানা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। পরিবেশবিদ ইনস্টিটিউটের সভাপতি প্রকৌশলী এস. এম. খোরশেদ আলম বলেন, একটি টেকসই ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে পরিবেশবিদ ও পেশাজীবীদের ভূমিকা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।

অনুষ্ঠানে একটি গবেষণাধর্মী বই ও একটি পরিবেশ পঞ্জিকা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের তৈরি গবেষণা পোস্টার প্রদর্শিত হয়। সেমিনারে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা নগর ও আবাসনভিত্তিক বিভিন্ন রূপকল্প প্রদর্শন করেন। এই প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য ছিল নগরের বাস্তব সমস্যা ও সম্ভাবনাকে জনসাধারণের কাছে সচিত্রভাবে উপস্থাপন করা। সেইসঙ্গে ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনায় শিক্ষার্থীদের নতুন ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়।