অনেক ভুল দেখছেন অধিনায়ক

স্পোর্টস রিপোর্টার

শ্রীলঙ্কার এই দলটার বিপক্ষে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ হেরে যাওয়াটা কিছুতেই প্রত্যাশিত ছিল না। সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজা, লিটন দাসের অনুপস্থিতিও কোনো অজুহাত এখানে হতে পারে না। অজুহাত দিচ্ছেনও না অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তিনি বলছেন, ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং, তিন বিভাগেই অনেক ভুলের পরিণাম এই দুই ম্যাচ হেরে যাওয়া।

যদিও সিরিজ জয়ের জন্য তামিম শ্রীলঙ্কাকে কৃতিত্ব দিতে ভুল করছেন না। কিন্তু হতাশার সিরিজের শেষ ম্যাচের আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলছিলেন, নিজেদের দায়টাই এখানে বেশি ছিল। নিজের দলের অবস্থা বলতে গিয়ে তামিম বলছিলেন, ‘আপনি যদি দেখেন যে আমরা দুটি ম্যাচে তিন ডিপার্টমেন্টেই এমন ছিল যে কোনো এক জায়গায় আমরা ভুল করেছিলাম। ব্যাটিংয়ে আমরা যেমন শুরু আশা করি, তেমন শুরুটা আমরা পাইনি। আবার বোলিংয়ে আমরা যেমন ডিসিপ্লিন আশা করি হয়তো তেমন ছিলাম না। একই সঙ্গে ফিল্ডিংয়েও আমরা যে স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করতে চাই তেমনটা করিনি।’

ইংল্যান্ডে বেশিরভাগ ছোটো মাঠে খেলে এসেছে বাংলাদেশ। কলম্বোতে সে তুলনায় অনেক বড়ো মাঠে খেলতে হচ্ছে। মাঠের আকারও বাংলাদেশ দলকে একটা বিপাকে ফেলছে। কিন্তু এটাকেও অজুহাত বানাতে চাইছেন না তামিম। তিনি বলছিলেন, ‘মাঠের সাইজেরও একটি বিষয় আছে। বিশ্বকাপে আমরা যেখানে খেলেছি সেখানে হয়তো বা এত বড়ো আউটফিল্ড ছিল না। আপনি দেখবেন যে খুব কম মাঠেই এত বড়ো আউটফিল্ড থাকে। আমার কাছে মনে হয় প্রথম ম্যাচে অনেক ভালো উইকেট ছিল। একটি দল অলরেডি ৩০০ রান করেছে, তাই আমরাও সেটি করতে পারতাম। বটম লাইনই এটি যে সবাই যেটা প্রত্যাশা করে, আর খেলোয়াড়দের নিজেদের প্রতি যে প্রত্যাশা সেই হিসেবে আমরা দল হিসেবে খেলতে পারিনি।’ 

সবচেয়ে বড়ো কথা, শ্রীলঙ্কা সিরিজটা খুব ভালো খেলেছে। শ্রীলঙ্কাকে উপযুক্ত কৃতিত্ব দিয়েও তামিম বলছিলেন, আসল ব্যাপার হলো, বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলতে পারেনি। নিজেরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে শ্রীলঙ্কা এই ভালোটা করতে পারত না বলেই তার বিশ্বাস, ‘ওরা কিছু কিছু জায়গায় আমাদের চেয়েও বেশি ডিসিপ্লিন। সেটা একটি কারণ যে আমরা ওদের সঙ্গে ম্যাচ জিততে পারিনি। আমি বলব না যে ওরা ভালো ক্রিকেট খেলেনি। সাথে এটাও সত্যি কথা যদি আমরা আমাদের কাজগুলো ভালো করতাম তাহলে হয়তবা ওরা যে জিনিসটি ভালো করছিল সেটা ওদের জন্য একটু কঠিন হয়ে যেত।’

ব্যাটিংয়ে সমস্যাটা তো একেবারে চোখে পড়ছে। কিন্তু বোলিংটাও ভোগাচ্ছে সেই বিশ্বকাপ থেকেই। বিশেষ করে নতুন বলে একেবারেই উইকেট আসছে না। তামিম এইদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছিলেন, কোনো একজন বোলার নতুন বলে সাফল্য না পাওয়াটা বেশ ভোগাচ্ছে দলকে, ‘দেখুন নতুন বলে উইকেট পাওয়া আসলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যেকোনো ফরম্যাটেই খেলেন না কেন এটা সাফল্য এনে দিতে সাহায্য করবে। আমার কাছে মনে হয় যদি এটি হতো, যদি মুস্তাফিজ, মিরাজ অথবা শফিউল কেউ একজন যদি আমাদের জন্য বিষয়টি রেগুলার করতে পারত তাহলে আসলেই অনেক সাহায্য করত।’