স্পোর্টস রিপোর্টার
সব অর্থেই দারুণ দুঃসময়ে আছেন তামিম ইকবাল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজে একটা ৮১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। এর পর থেকে নিজেকে হারিয়ে খুঁজে ফিরছেন। এর পর থেকে তামিম ১৩ ম্যাচে ২৬.৯২ গড়ে মাত্র রান করতে পেরেছেন। এ সময়ে দুটি মাত্র ফিফটি করেছেন। সবচেয়ে বাজে ব্যাপার হলো, স্ট্রাইক রেট কমে যাওয়ার পাশাপাশি সর্বশেষ ম্যাচগুলোতে একই ধরনে আউট হচ্ছেন। সর্বশেষ ছয় ম্যাচেই বোল্ড হয়েছেন।
সব মিলে একটা দুঃসময়ের ভেতর দিয়ে যে যাচ্ছেন, সেটা তামিমও অস্বীকার করছেন না। তিনি নিজেই বলছেন, ‘প্রতি ম্যাচেই আশা করছি এ দুঃসময় থেকে বের হতে। কিন্তু সেটা হচ্ছে না, আমি আসলে প্রতিদিনই অনুভব করার চেষ্টা করি। আমার প্রতিদিনই মনে হয় যে আজকে হয়ে যাবে, আজকে হয়ে যাবে। তবে সেটি হচ্ছে না কোনোভাবে। আমি আমার আউট হওয়ার ধরন খুঁজছি। শেষ ছয় ইনিংসে আপনি যদি দেখেন যে একইভাবে সেইম ডিসমিসাল। তবে ধরন আলাদা।’
একজন ক্রিকেটার হিসেবে তামিম ইকবাল দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, এ চক্র থেকে খুব দ্রুত বের হয়ে আসবেন তিনি। বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মনে করেন, তার আগের খারাপ সময়ের অভিজ্ঞতা এখানে কাজে লাগবে, ‘হ্যাঁ, একজন ক্রিকেটার হিসেবে আপনাকে বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আপনি এ জিনিসগুলো থেকে বের হয়ে আসতে পারবেন। আর ভালো এবং ইতিবাচক দিক হলো আমি এই প্রথম এটি দেখছি না। এর আগেও এই অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার। আমাকে শুধুমাত্র নিজের প্রতি বিশ্বাস করতে হবে যে, আমি ঘুরে দাঁড়াতে পারব। আমি যদি এই বিশ্বাসটিই না রাখি তাহলে এটি আরো কঠিন হবে আমার জন্য। আমি সব সময় একটি কথা বলতাম এবং বলি যে, আপনি যখন এই বিষয়গুলো থেকে বের হয়ে আসতে পারবেন তখন নিশ্চিত করতে হবে যত বেশি সম্ভব রান করার।’
দুঃসময়েই তামিমের কাঁধে পড়েছে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব। আর সেখানেও টানা দুই ম্যাচ হেরে ব্যাকফুটে তামিম। অধিনায়ক হিসেবে নিজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে বললেন, ‘আমার কাছে মনে হয় যে আমি কতোটুকু নিজেকে রেট করি না করি সেটা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো কিভাবে আমরা দল হিসেবে খেলছি। আর সত্যি কথা হলো আমরা দল হিসেবে ভালো করিনি। এটাই হলো সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’
তামিম অবশ্য মনে করেন না যে, দুই বা তিন ম্যাচ দেখে একজনকে অধিনায়ক হিসেবে আদৌ মূল্যায়ন করা যায়, ‘অধিনায়কত্ব আমি কেমন রেট করব না করব এটি আসলে ফেয়ার নয় এবং এটি আমার সম্পর্কে নয়। একটি, দুটি কিংবা তিনটি ম্যাচ দেখে আপনি কখনোই একজন খেলোয়াড়কে কিংবা অধিনায়ককে যাচাই করতে পারবেন না। সেটি কাউকেই করতে পারবেন না। তবে এই দুটি ম্যাচের কথা যদি বলতেই হয় যে আমরা পারিনি। হয়তো আমরা প্রথম দুই ম্যাচে ভালো খেলিনি।’