ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক

বগুড়ার ৬৫ কিলোমিটারের সিংহভাগ অংশই বেহাল

ষ্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বগুড়া অংশের ৬৫ কিলোমিটারের সিংহভাগ বেহাল (শেরপুরের চান্দাইকোনা থেকে শিবগঞ্জের রহবল পর্যন্ত)। এর মধ্যে ১৭ কিলোমিটার অংশের সংস্কার কাজ বর্ষার আগেই শেষ করার জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হলেও সাত মাসে কাজ হয়েছে মাত্র চার কিলোমিটার। এখন বর্ষার কারণে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্পেটিং ও বিটুমিনের কাজ বন্ধ ঘোষণা করেছে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ। এ কারণে ঈদযাত্রায় মহাসড়কের বগুড়ার অংশে ভোগান্তির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। 

এখন ঈদযাত্রা সামনে রেখে সওজ নিজস্ব জনবল দিয়ে  সংস্কারের নামে বর্ষার মধ্যেই মহাসড়কের ভাঙাচোরা গর্তে ইট-বালু ফেলছে । মহাসড়কে এক লেন বন্ধ করে এই সংস্কার কাজ চলমান থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও চালকদের।

শনিবার সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের চান্দাইকোনা থেকে রহবল পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার অংশের সিংহভাগই বেহাল। সবচেয়ে বেহাল অবস্থা বগুড়া সদরের গোকুল থেকে মহাস্থানগড় সেতু পর্যন্ত এবং শেরপুরের ফুডভিলেজ সংলগ্ন স্থানে এক কিলোমিটার অংশ। এই দুটি অংশে ইট কার্পেটিং উঠে মহাসড়কে গর্ত তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে কার্পেটিংয়ের নিচের কাদামাটিও বেরিয়ে পড়েছে। একটু বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে কাদাজলে একাকার হচ্ছে। ভরা বর্ষায় এসব গর্তে ইট-বালু ফেলে ভরাট করে কার্পেটিং করে সংস্কারের তোড়জোড় চলছে। তবে একটু বৃষ্টি হলেই ইট দিয়ে ভরাট করা অংশে আবারও গর্ত হচ্ছে। একটু বৃষ্টিতেই বেহাল মহাসড়কে যানচলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে। মাঝিড়া বন্দর এলাকায় কয়েকটি স্থানে মহাসড়কের একপাশ ভেঙে গেছে। গতিরোধের সামনে গর্ত তৈরি হয়েছে। শহরের বনানী মোড় থেকে মাটিডালি বিমান মোড় পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার অংশ পুরোটাই বেহাল। গত অর্থবছরে এই অংশ সংস্কার কাজ শেষ হয়। গোকুল থেকে মহাস্থানগড় সেতু পর্যন্ত অংশ খুবই নাজুক। মহাস্থান বাজার এলাকায় কাদাজলে একাকার। মহাসড়কের ইট কার্পেটিং উঠে অসংখ্য স্থানে গর্ত তৈরি হয়েছে। সেসব গর্তে কাদাজলে একাকার। ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে এসব গর্তে ইট-খোয়া ফেলছে সওজে। এতে ভোগান্তি আরো বাড়ছে। সংস্কারের এই তোড়জোড় চলছে মহাসড়কের এক লেন বন্ধ রেখে। এতে করে বর্ষায় অন্য এক লেনে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে যানজট তৈরি হচ্ছে। 

সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার জন্য একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এই প্রকল্প থেকে জমি অধিগ্রহণ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে গত অর্থবছরে ১৬ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার অংশ সংস্কারে ব্যয় করা হয় ২০ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এছাড়া নিজস্ব জনবল দিয়ে আড়াই কিলোমিটার অংশে ছোটোখাটো সংস্কার কাজে সওজের ব্যয় হয় আরো ৫০ লাখ টাকা।

চলতি অর্থবছরে প্রায় ১৭ কিলোমিটার অংশ সংস্কারের জন্য ১৮ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করা হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী চলতি ৮ জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল।  কিন্তু কার্যাদেশের মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত সওজের হিসেবেই কাজের অগ্রগতি মাত্র ৪ কিলোমিটার। অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সওজ থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগাদা দেওয়া হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো সাড়া  মেলেনি। এ অবস্থায় বর্ষার কারণে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সওজ বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, কয়েকদিন আগে সড়ক ভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই মহাসড়ক সংস্কার কাজের ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মহাসড়কের বাকি কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত তাগাদাপত্র পাঠানোরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ১০ শতাংশ জামানত বাজেয়াপ্তসহ তিন বছরের জন্য কালো তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাভানা কনস্ট্রাকশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকবর আলী বলেন, নির্মাণ উপকরণ বিদেশ থেকে আমদানি জটিলতাসহ নানা কারণে কার্যাদেশ অনুযায়ী এই মহাসড়কের সংস্কার কাজ এখনো শেষ করা সম্ভব হয়নি। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।