বন্যায় চকরিয়ায় ১৮ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত

চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

জুলাই মাসের ১২ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার তাণ্ডবে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অভ্যন্তরীণ ১৮টি সড়ক-উপসড়ক ভেঙে গেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এলজিইডি অফিসের হিসাব মতে—বন্যার তাণ্ডবে ২০.৮৯ কিলোমিটার সড়ক, কালভার্ট ও ব্রিজ ভেঙে গিয়ে প্রায় ৭ কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব সড়ক দিয়ে বর্তমানে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা রিকশা ও সিএনজি নিয়ে চলাচল করতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ জনগণ। ফলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

স্থানীয়রা জানায়, গত অর্থবছর এসব সড়ক এলজিইডির অর্থায়নে মেরামত করা হয়েছে; কিন্তু কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদাররা নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে এসব সড়ক নির্মাণ ও মেরামত কাজ করায় এক বছরও স্থায়ী হয়নি।

চকরিয়া এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলো হচ্ছে— কাকারা ইউনিয়ন পরিষদ অফিস—মাঝের ফাঁড়ি বাজার রাস্তা, কাকারা শাহ ওমর আরএইচডি প্রপার—কাকারা ইউএনআর রাস্তা, কৃষ্ণকাটা রাস্তা, বেতুয়া বাজার আরএইচডি—খিলছাদক বরইতলী বিবিরখিল রাস্তা, বদরখালী ইউপি অফিস, দক্ষিণ মাথা ফিশারি ঘাট সড়ক, মাঝের ফাঁড়ি থ্রি মাথা দক্ষিণ কাকারা জিপিএস সড়ক, কাকারা মিনি বাজার তাজুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা-হাজি ইলিয়াছ বাড়ি সড়ক, মাঝের ফাঁড়ি ব্রিজ—সুরাজপুর ফরেস্ট অফিস সড়ক, লক্ষ্যারচর আরএইচডি সড়ক—শাহ ওমরাবাদ হাই স্কুল পৌরসভা সংযোগ সড়ক, মাঝের ফাঁড়ি ব্রিজ কাটাখালী হাট সড়ক, বরইতলী মিডেল সড়ক, পহরচান্দা সিকদারপাড়া—গোবিন্দপুর সড়ক, একতাবাজার—পুক্কাইয়া ঝিরি লামা সংযোগ সড়ক, বরইতলী পহরচান্দা আরএইচডি—মছনিয়াকাট আরএইচডি সড়ক, ডিঙ্গাকাটা সড়ক, বিএমচর দরগা পাহাড়—কষ্ণপুর আরএনডিপিএস সড়ক, বিএমচর দরগা মুরা—কান্নারকুম বাড়ি বান সড়ক, বিএমচর ইউপি অফিস—পানির নালা জকরিয়া সংযোগ সড়ক।

চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কর্মকর্তা কমল কান্তি পাল জানান, বন্যায় যে সমস্ত ছোটো ছোটো এলজিইডির রাস্তা ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ঐসব রাস্তা ইউপির মাধ্যমে সংস্কার করার জন্য উপজেলা পরিষদের সভায় সিদ্ধাস্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কাকারাসহ কয়েকটি ইউনিয়নে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত কারপেটিংয়ের রাস্তা, কালভার্ট এলজিইডি কর্তৃক বরাদ্দ হাতে পেলেই সংস্কার করা হবে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি বিবরণ নিয়ে উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় আলোচনা করা হয়। যে সব রাস্তা-ঘাট চলাচলের অনুপযোগী রয়েছে তা স্ব স্ব পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়নে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। রাস্তার বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) বিভাগকে জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে।