বন্যায় বীজতলা, আউশ ও সবজি খেতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

 

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

টানা বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে গত ১২ জুলাই থেকে দুই দফা বন্যায় জেলার কৃষি অধ্যুষিত কমলগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কৃষকরা জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করতে পারছেন না। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ধানের চারা সংগ্রহে বিভিন্ন স্থানে হন্যে হয়ে ঘুরছেন।

সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি এলাকা ঘুরে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বন্যায় বাড়িঘর ও রাস্তাঘাটের ক্ষয়-ক্ষতির চেয়েও কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কমলগঞ্জ পৌরসভা ছাড়াও আদমপুর, ইসলামপুর, সদর ইউনিয়ন, আলীনগর, রহিমপুর, শমশেরনগর, পতনঊষার ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের প্রায় ৭০ হেক্টর বীজতলা, ৩০০ হেক্টরের আউশ ও পঞ্চাশ হেক্টরের সবজি খেত পুরোপুরি বিনষ্ট হয়েছে। আমন ও টম্যাটোর বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকরা বিকল্প ধানের চারা না পেয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ছেন।

পতনউষার ইউনিয়নের কৃষক ফয়জুর রহমান, শেরওয়ান আলী, শওকত আলী ও মসুদ মিয়া, মুন্সীবাজার ইউনিয়নের মোজাহিদ আলী বলেন, “পাঁচ-ছয়দিন ধরে আমনের বীজতলার ওপরে কোমর পানি থাকায় সবগুলো ধানের চারা বিনষ্ট হয়ে গেছে। এখন টাকা দিয়েও আমন ধানের চারা পাওয়া যাচ্ছে না।”

আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, বন্যায় শুধু আদমপুর ইউনিয়নে প্রায় ৫০ হেক্টরের মতো আউশ খেত, ১৫ হেক্টরের মতো আমনের বীজতলা, ১০ হেক্টরের মতো টম্যাটোর বীজতলা এবং টম্যাটো, মুখি, বেগুন, ঢ্যাঁড়শ, লাউসহ ১০ হেক্টরের মতো সবজি খেত বিনষ্ট হওয়ায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

শমশেরনগর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নারায়ণ মল্লিক সাগর বলেন, নিম্নাঞ্চলের এই ইউনিয়নের প্রায় ১০ হেক্টরের মতো আউশ খেত, পাঁচ হেক্টরের মতো বীজতলা ও ১০ হেক্টরের মতো সবজি খেত বিনষ্ট হয়েছে। মুন্সীবাজার ইউপি সদস্য সফিকুর রহমান ও শমশেরনগর ইউপি সদস্য হাফিজুল হক চৌধুরী বলেন, বন্যায় তাদের ৩০টি গ্রামের আউশ খেত, বীজতলা ও সবজির ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়েছে।

কমলগঞ্জে বন্যা শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও উপজেলা কৃষি বিভাগ এখনো প্রকৃত ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণ করতে পারেনি। কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, সব মিলিয়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হবে। তবে বেশি ক্ষয়-ক্ষতি দেখানোও আমাদের সমস্যা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান আউশ, বীজতলা ও সবজির ক্ষয়-ক্ষতির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণ চলছে। এখনো পরিপূর্ণ হয়নি। জেলা অফিস থেকে চাহিদা চাওয়া হলে তা পরিপূর্ণ করে দেওয়া হবে।