বাসে উচ্চস্বরে কথা বলার জেরে জবিতে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে কথা কাটকাটির জেরে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। তাছাড়া  বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১১ই নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনাররের সামনে, দ্বিতীয় ফটক এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় বাসে উচ্চস্বরে কথা বলা নিয়ে মার্কেটিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদ এবং রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদীর মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সুমন সর্দার গ্রুপের কর্মীরা সাজিদ এবং তার দুই সহপাঠীর ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটে হামলা করেন। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। 

মার্কেটিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদ বলেন, মঙ্গলবার আনুমানিক সকাল ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস দিয়ে ক্যাম্পাসে আসছিলাম। আমাদের পরীক্ষা ও খেলা নিয়ে বাসে আলাপ-আলোচনা করছিলাম। তখন রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের সাদী আমাদের ধমক দিয়ে বলে, 'তোরা এখানে চিল্লাফাল্লা করতেছিস কেন? চুপ থাক তোরা।' তখন আমরা পাল্টা জবাব দেই। এরপরে সাদী হুমকি দিয়ে বলে, 'তোরে মেরে সেকেন্ড গেইটে ঝুলিয়ে  রাখবো। তোর নাম পরিচয় দে। তোরে সেকেন্ড গেটে ঝুলাবো।' তখন আমি জিজ্ঞেস করি কোন ক্ষমতায় তুমি আমাকে ঝুলাবে। পরে গতকাল ১১ টার দিকে তারা আমাকে সেকেন্ড গেটে খুঁজেছিলো।

সাজিদ আরও বলেন, মঙ্গলবার সকালে আমি কয়েকজন বন্ধু বান্ধব নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেইটে বসেছিলাম। এসময় সাদীসহ ১৮/২০ জন আমার উপর হামলা করে। আমার সহপাঠী প্রত্যয়, ইব্রাহিম, আকাশ ও মো. আলামিন ও মারধরের শিকার হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সোলায়মান খান সাগর বলেন, সাজিদসহ দ্বিতীয় গেটে বসে ছিলাম। তখন ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী আরাফাত, গণিত বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের মাশফিক রাইন, বাংলা বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী আশরাফুল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহারুল ইসলাম, গণিত বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী মিঠু সাজিদকে টেনে নিয়ে যেয়ে মারধর করতে থাকে। আমার মনে হয়েছে এটি পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা। এটি একটি সন্ত্রাসী কার্যক্রম।

আরাফাত, মাশফিক রাইন, আশরাফুল, শাহারুল,মিঠু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সুমন সর্দারের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।  

তবে অভিযুক্তদের রাজনীতিতে সক্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুমন সর্দার। তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে এবং আমার অনুসারী বলা হচ্ছে তারা আমার এলাকার ছোট ভাই হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ক্যাম্পাসে রাজনীতি কিংবা এ ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তারাও রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়। 

এদিকে দুপুরবেলা দ্বিতীয় গেইটের সংঘর্ষের ঘটনায় সমাধানের জন্য শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রইছ্ উদদীনের রুমে মার্কেটিং বিভাগের চেয়্যারমান ইমারন হোসাইন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তাজাম্মুল হক এবং কয়েকজন সহকারী প্রক্টরসহ আলোচনায় বসেন। 

এসময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাদীকে রুমে নিয়ে আসার পথে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা সাদীর উপর হামলা করে। এসময় হামলার নেতৃত্ব দেন মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ রহমান জনি এবং মুশফিকুর রহিম। এসময় পাল্টাপাল্টি আক্রমণে রক্তাক্ত হন মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ রহমান জনি। আহত হন রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাদী। তাদের সঙ্গে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন প্রক্টর।

এ ঘটনার জেরে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলায় এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সামনে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রইছ্ উদদীন বলেন, অন্যায়ের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অনতিবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা হবে। আমরা দ্রুত কাজ করছি। ঘটন তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠিত হয়েছে।