ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে দ্রুত রেললাইন মেরামত করুন

আলোচনা সভায় পরিবেশবাদীদের দাবি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বন্যা পরবর্তী ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে দ্রুত রেললাইন মেরামতের দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, সারাদেশে মানসম্পন্ন রেললাইন রয়েছে মাত্র ৭৩৯ কিলোমিটার বা ২৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। বছরের পর বছর এ সেতুগুলো সংস্কার না করার কারণে এর মধ্যে ৪০২টি রেলসেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে যাত্রী দুর্ভোগের পাশাপাশি রেলওয়ে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়, ট্রেন উদ্ধার ও মেরামত এবং লাইন মেরামতে অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আসন্ন ঈদে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইনগুলোতে ট্রেন চলাচলে রেলওয়ের সাবেক অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে করণীয় নির্ধারণ করা এবং অভিজ্ঞ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান দ্বারা দ্রুত মেরামতের কাজ সম্পন্ন করে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখার সুপারিশ জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি মেরামতের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি-না তা তদারকি করার কথাও বলেন। গতকাল কলাবাগানের পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ সব কথা বলেন। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।  

সভাপতির বক্তব্যে পবার চেয়ারপারসন আবু নাসের খান বলেন, রেলওয়ের আজকের যে করুণ পরিণতি  একদিনে হয়নি। দাতা সংস্থা এবং স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার রেল। রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্টদের অবহেলা, নিয়মিত তদারকি ও মেরামতের অভাব, মানসম্মত পর্যাপ্ত পাথরের স্বল্পতা ঝুঁকিপূর্ণ সেতু লোকবল ঘাটতি এবং যন্ত্রাংশের সংকটের কারণে ট্রেন দুর্ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। সারা বছর রেললাইন সুষ্ঠুভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এবং বন্যা পূর্ববর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বন্যায় ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমানো সম্ভব হতো। তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইনগুলো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নিতে হবে।

মূল প্রবন্ধে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট-এর প্রকল্প কর্মকর্তা মো. অতিকুর রহমান বলেন, রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতিবছর ৫ লাখ ৫৬ হাজার ঘনফুট পাথরকুচির প্রয়োজন হয়। কিন্তু পাওয়া যায় মাত্র ১ লাখ ঘনফুট। বছরে ৫ লাখের বেশি ক্লিপ চুরি বা ভেঙে গেলেও পাওয়া যায় সোয়া ২ লাখ। বাংলাদেশ রেলওয়ে ইতিমধ্যে ১১৩৫ দশমিক ২৩ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসন, ২৯৫টি রেলসেতু পুনর্বাসন কাজ সম্পন্ন করলেও তা দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি। রেললাইন সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণে আধুনিক মেশিন এবং সে অনুযায়ী লোকবল ও ওয়ার্কশপ প্রয়োজন।   

পবার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌ. মো. আবদুস সোবহান বলেন, রেলপথ পরিদর্শক বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা এবং নিয়মিত রেললাইন ট্রলি করা ও রিপোর্ট প্রকাশ করা এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

প্রবীণ রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, রেলের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়েছে ঠিকই তবে এখনো রেলে অনেক সংকট ও রেলকে পিছিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থায় সরকার তথা জনগণের একটি শক্তিশালী যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

পবার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বলের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন মো. মুসা, অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট-এর পরিচালক গাউস পিয়ারী, হীল এর জেবুন নেসা এবং ওয়ার্ল্ড ক্যানসার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক জীবন কুমার সরকার প্রমুখ।