মানিকগঞ্জে ১৩টি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বছরের পর বছর ধরে লাইসেন্সবিহীন অবস্থায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে অপরদিকে সাধারণ রোগীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জানা গেছে, ঐ ১৩ প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অনলাইনে আবেদন করেছে। কিন্তু তারা লাইসেন্স পায়নি।
নিয়ম রয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর যাচাই-বাচাই শেষে অনলাইনের মাধ্যমে তাদের লাইসেন্স নিশ্চিত করবে। কিন্তু লাইসেন্স না পাওয়া পর্যন্ত তারা কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। কিন্তু জেলায় ঐ ১৩ প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার লাইসেন্স পাওয়ার আগেই বছরের পর বছর ধরে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অথচ এদের মনিটরিং করার জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি রয়েছে। যার সভাপতি সিভিল সার্জন এবং সদস্য সচিব সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা। তাদের নিয়মিত মনিটরিং করার কথা থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে তারা কার্যত কোনো ভূমিকা পালন করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
অবৈধভাবে চালিত হরিরামপুরের ঝিটকা ইসলামী হাসপাতালের মালিক মো. জাহিদের কাছে হাসপাতালের লাইসেন্স আছে কি না জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। সিংগাইরের ঘোনাপাড়া সায়মা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মো. সানোয়ার জানান, ২০১৭ তে অনলাইনে লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো কোনো কাগজপত্র পাই নাই। তিনি বলেন, হাসপাতাল মোটামুটি বন্ধই। কিন্তু হঠাত্ দুই-এক জন রোগী আসলে অন্য হাসপাতাল থেকে ডাক্তার এনে দেখানো হয়।
মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের প্রধান ফটকের বিপরীতে অবস্থিত মানিকগঞ্জ সেন্ট্রাল স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও রিসার্চ সেন্টার । দুই বছর পূর্বে চালু হলেও এখন পর্যন্ত লাইসেন্সবিহীন অবস্থায় চলছে তাদের কার্যক্রম। হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. জালাল উদ্দিন জানান, আমরা লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছি যা প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় রয়েছে।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জানান, কাজের চাপ ও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে তারা নিয়মিত মনিটরিং করতে পারেন না। দ্রুত তারা লাইসেন্সবিহীন হাসপাতালের বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন।
সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল আমিন আখন্দ জানান, আমাদের বর্তমানে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন চলছে। রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শেষ হলে অবৈধ প্রতিষ্ঠানের তালিকা করে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহযোগিতায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।