ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে নিহত ২, আহত শতাধিক

স্মরণকালের শক্তিশালী ভূমিকম্পে নরসিংদীতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুনসহ নরসিংদীর বিভিন্ন স্থানে হেলে পড়েছে ভবন। তাছাড়া বিভিন্ন স্থাপনা ও ভবনে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ঘর ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে দুই জন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। 

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে দুজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সর্বিক) আবুল তাহের মোহাম্মদ শামসুজাম্মান। তিনি বলেন, ভূমিকম্পে গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। ঢাকায় নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়। 

নিহতরা হলেন- উপজেলার মালিতা গ্রামের বৃদ্ধ কাজম আলী ভূঁইয়া (৭০) এবং সদর উপজেলার দেলোয়ার হোসেনের শিশু পুত্র ওমর ফারুক (৮)। এদের মধ্যে বৃদ্ধ কাজম আলী ভূঁইয়া মাটির ঘর এবং ওমর ফারুক ঘরের দেয়াল চাপায় নিহত হয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে নরসিংদীতে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। কয়েক সেকেন্ডের তীব্র ঝাঁকুনিতে ঘরবাড়ি, দালানকোঠা কেঁপে ওঠে। হঠাৎ আঘাতে আতঙ্কিত মানুষজন এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৭। যার উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে। 

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ওই এলাকায় অন্তত শতাধিক আহতের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ভূমিকম্পে নরসিংদী সদর ও পলাশ উপজেলায় আহতের সংখ্যা বেশি। আহতদের মধ্যে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ৫৭ জন এবং নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ১৩ জন ভর্তি আছেন। ভূমিকম্পে আহতদের মধ্যে এই ৭০ জন দুটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাছাড়া আহত অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস। ছবি: সংগৃহীত

আহতদের মধ্যে ১৭ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন—তাসপিয়া (১৮), শামীম (২০), রাকিব (২৪), আতিকুর (৭), ওমর (১০), সাইফুল (৩৬), মেহেরউন (২০), আবির (৬), নাসরিন (৩৭), ইয়ামিন (২২), মিথিলা (২০), তামিম (৬), হনুফা (৪০), বিল্লাল (৫০), জাকির (৩৫), মান্নান (১৬), ইমানুল (১৯)।

ভূমিকম্পে নরসিংদীর পলাশ, শিবপুর, রায়পুরা, মনোহরদী, বেলাব ও মাধবদীতেও বহু ভবনে হয় ফাটল দেখা দিয়েছে। তাদের মধ্যে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার নতুন বাজার গ্রামের ইসহাক মিয়ার বাড়ি ভেঙে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমনকি বিভিন্ন ফসলি জমিতেও ফাটল দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 

অন্যদিকে, ভয়াবহ ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও। পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

পলাশ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আব্দুল শহিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পলাশ ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিটের চেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যে এ আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আনে।