আইএসের ভবিষ্যত্ কোন পথে?

চার বছর আগে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিরা সিরিয়া এবং ইরাকের এক বড় অংশ জুড়ে স্বঘোষিত ‘খেলাফত’ প্রতিষ্ঠা করে। এর ফলে লাখ লাখ মানুষ নৃশংসভাবে নিহত হয়। এখন মাত্র শতকরা এক শতাংশ এলাকা তাদের দখলে আছে। ত্রাস সৃষ্টিকারী এই ইসলামিক স্টেটের ভবিষ্যত্ এখন কী?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত মিত্র অর্থাত্ সিরিয়ার কুর্দি এবং আরব যোদ্ধারা তাদের লড়াই শেষ করছে যেখানে ইসলামিক স্টেটের সর্বশেষ ঘাঁটি ছিল। স্থানটি ছিল সিরিয়ার পূর্বের একটি অঞ্চল। যদিও মার্কিন সেনাবাহিনী সতর্ক করে বলেছে, এসব জঙ্গি তাদের গর্হিত কাজের শেষ প্রচেষ্টায় রয়েছে, কিন্তু তারা এখনো পরাজিত হয়নি। ১৫০০ থেকে ২০০০ জঙ্গি সিরিয়ার হাজিন শহরের মধ্যে রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলছে, মধ্য ইউফেরাত নদীর উপকূলের এই অঞ্চলে তারা এক বছরের বেশি সময় ধরে তীব্র লড়াই প্রত্যক্ষ করেছে।

ইসলামিক স্টেটের সামনে এখন কী : মার্কিন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সিরিয়াতে এখনো ১৪ হাজার জঙ্গি রয়েছে আর ইরাকে ১৭ হাজার একশ। যদিও কোনো অঞ্চল তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেই। এ দিকে, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলছে, তিন থেকে চার হাজার জঙ্গি রয়েছে লিবিয়াতে। আফগানিস্তানে রয়েছে চার হাজার জঙ্গি। সংস্থাটি বলছে, আইএসের উপস্থিতি রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পশ্চিম আফ্রিকা, মিসরের সিনাই উপত্যকা, ইয়েমেন, সোমালিয়া এবং দ্যা সাহেলে। কৌশলগত গোয়েন্দা সংস্থা সৌফান গ্রুপ ২০১৭ সালের অক্টোবরে এক গবেষণা করে। সেখানে বলা হয়, বিশ্বের ৩৩টি দেশ থেকে আসা প্রায় পাঁচ হাজার ৬০০ আইএস যোদ্ধা নিজ দেশে ফিরে গেছে। সবচেয়ে বড় সংখ্যা ৯০০ জন ফিরে গেছে তুরস্কে। এক হাজার ২০০ জন ফিরে গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে। এরমধ্যে যুক্তরাজ্যে গেছে ৪২৫ জন। জার্মানি এবং ফ্রান্সে গেছে ৩ শ জন করে। শত শত বিদেশী যোদ্ধা যারা এসডিএফের কাছে ধরা পরেছে। —বিবিসি বাংলা