২ সহযোগীসহ মোহাম্মদপুরে শীর্ষ সন্ত্রাসী বুনিয়া সোহেল গ্রেপ্তার, বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার

মোহাম্মদপুরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বহু মামলার আসামি ও কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী বুনিয়া সোহেল (৪০) আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একই অভিযানে তার দুই সহযোগীকে বিদেশি অস্ত্রসহ আটক করেছে সেনা টহল দল। ঘটনাটি ঘটে শনিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১টার মধ্যে।

সেনা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যায় শের-ই-বাংলা আর্মি ক্যাম্পে খবর আসে যে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় বুনিয়া সোহেলকে গনপিটুনি দেওয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর তিনটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

এদিকে, ঘটনা পরবর্তী সময়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও আর্মি ক্যাম্পের আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় সোহেলের দুই সহযোগী— নয়ন (৩০) এবং রাব্বি (২৬)-কে। টহল দল তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অস্ত্রের তথ্য পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে রাত ১টার দিকে সেনাবাহিনীর ছয়টি টহল দল মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালায়। অভিযানে উদ্ধার হয়—মার্কিন তৈরি ৭.৬৫ মিমি ক্যালিবারের ২টি পিস্তল, পিস্তলের ৬ রাউন্ড গুলি।

৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের এক কর্মকর্তা ইত্তেফাক অনলাইনকে জানান, বুনিয়া সোহেলের বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় প্রায় ৩৮–৪০টি মামলা রয়েছে। গত এক বছরে তার গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে। তিনি বলেন, “আজ প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে বুনিয়া সোহেল আহত হওয়ার পর তার সহযোগীরা অস্ত্র সংগ্রহ করে প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। টহল দল তাদের হাতেনাতে আটক করায় সম্ভাব্য রক্তপাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, সংঘর্ষে জড়িত উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অভিযান শেষে হাসপাতালে পুলিশ প্রহরায় থাকা অবস্থায় বুনিয়া সোহেলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আটক দুই সহযোগী এবং উদ্ধার করা অস্ত্র মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে এলাকাবাসী বলছে, এ অভিযান ও অস্ত্র উদ্ধার স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে। মোহাম্মদপুরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ।