তারেক আখন্দ। বাংলাভিশনের অনুষ্ঠান প্রধান। ঈদ অনুষ্ঠানের এই রেসে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় চ্যানেলটি কিভাবে দেখেছে এই প্রতিযোগিতা। একইসঙ্গে এই ডিজিটাল মিডিয়ার দৌড়ে এখনকার টিভি মিডিয়ার অবস্থান কোথায়। সবকিছু নিয়েই তিনি কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে—
বাংলাভিশনের ঈদ প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চাচ্ছি—
গত এক দশক ধরেই বাংলাভিশন দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। এটা আমরা বেশ জোরগলায় বলতে পারি, এবারো তার ব্যতিক্রম হবে না। এই ঈদে আমরা ৪টি ৭ পর্বের ধারাবাহিক, ৭টি টেলিছবি ও ৩৫টি একক নাটক প্রচার করবো। তাছাড়া মিউজিক্যাল লাইভসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান তো আছেই।
গত ঈদের সঙ্গে বিশ্বকাপ যোগ হয়েছিল। অনুষ্ঠানও ভাগ হয়েছে। এবার কী তাহলে ঈদ আয়োজনের প্রস্তুতিটা বড়?
গত ঈদে মানুষ খেলা দেখেছেন, একইসঙ্গে ঈদের আয়োজনও দেখেছেন। বিশ্বকাপ তো খুব বড় একটা আয়োজন। এরমধ্যে আমাদের ঈদ প্রস্তুতির পরিসর ছোট ছিল তা কিন্তু না। তবে হ্যাঁ, গত ঈদের চেয়ে এবার খুবই বড় পরিসরে আমাদের প্রস্তুতি চলছে।
ঈদে তারকা থেকে দর্শক—সবাই ইউটিউব, ওয়েব সিরিজের দিকে ঝুঁকছে। বিষয়টি টিভির জন্য কতটা হুমকির?
আমি মনে করি টিভি ও ইউটিউব একে অপরের পরিপূরক। টেলিভিশনের ভিউয়ারের সঙ্গে ডিজিটাল প্লাটফর্মগুলোর তুলনা আমি করতে চাই না। ঈদসহ অন্যান্য উত্সবে চ্যানেলগুলোর প্রতি দর্শকদের যে আগ্রহ থাকে তার সঙ্গে ইউটিউবের তুলনা করা ঠিক হবে না। দুটো কিন্তু দুটোর স্বকীয় জায়গায় আছে। মানুষ টিভি যে মেজাজে দেখে, ইউটিউব সেভাবে দেখে না।
স্পন্সররা তাদের বিজ্ঞাপন বাজেট থেকে ডিজিটাল স্ট্রিমিংয়েও বিনিয়োগ করছে। এ কারণে চ্যানেলগুলো কোনো সঙ্কটে পড়ছে কি-না?
ব্যবসার ক্ষেত্রে তো কিছুটা ভাগ হচ্ছেই। এটাকে যদি আপনি অন্যভাবে দেখেন, ডিজিটালেও কিন্তু কিছু ভালো কাজ হচ্ছে। আমি কাউকে কারো প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখতে চাই না।
প্রতি ঈদেই শতশত নাটক তৈরি হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একঘেঁয়েমির অভিযোগ করছেন অনেকেই...
এভাবে বললে বিষয়টা সরলীকরণ হয়ে গেল। তবে হ্যাঁ, মানুষ কিছু কাজকে একঘেঁয়েমি মনে করতেই পারে। আর ক্রিয়েটিভ কন্টেন্টের ক্ষেত্রে এ ধরনের মন্তব্য করাও খুব সহজ! হুট করেই বলে ফেলেন কাজটা গতানুগতিক। আসলে একটা কাজের পেছনে অনেকগুলো মেধা, শ্রম ও বিনিয়োগ থাকে। যখন একাধিক মানুষ একত্রে একটা কাজ করে তখন কিছু কাজ ভালো, কিছু মন্দ, আবার কিছু বেশি ভালো হবে, এটাই স্বাভাবিক। আমি কাজের পক্ষে। বেশি কাজ হলে বেশি ভালো কাজ হবে এটাই স্বাভাবিক।
২-৩ জন আর্টিস্ট দিয়ে এখনকার নাটক শেষ করা হচ্ছে। আপনার দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি নিয়ে করণীয় কী?
আপনি আমাদের স্ক্রিনটাকে ফলো করলে দেখবেন এবারের আয়োজনে মোটামুটি সবার কাজ আছে। কারো কাজ ২টা বা কারো ৫টা, সবার কাজই আছে আমাদের।
ঈদকে কেন্দ্র করে এখন যে নাটকগুলো নির্মিত হয় সেগুলোতে ঈদের কোনো অস্তিত্ব থাকে না। এ বিষয়ে কী বলবেন?
এই ট্রেন্ডটা কিন্তু আরো ৫/৭ বছর আগেই চলে গেছে। শুধুই ঈদ থাকবে কন্টেন্টে এটা আমাদের এবারো আছে ২-৩টি আয়োজনে। তবে সবগুলোতে থাকছে না, থাকলে ভালো কাজ করার সুযোগটা কম তৈরি হয়।
সাক্ষাত্কার:নুরুল করিম