প্রথম অধিনায়ককে শেষ শ্রদ্ধা

সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসানের মতে, শামীম কবির (আনোয়ারুল কবির শামীম) বাংলাদেশের ক্রিকেটে একজন পুরোধা। শুধু মাঠের ক্রিকেটে নয়, ওই সময়ের ক্রিকেটারদের মাঠের বাইরে আচার-আচরণের দীক্ষা গুরুও ছিলেন তিনি। মাঠের বাইরে ক্রিকেটারদের চলন-বলন, পরিপাটি থাকা, মার্জিত-রুচিশীল জীবনের নিদের্শনা তার মাধ্যমেই বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা পেয়েছিলেন।

বিসিবি একাডেমি মাঠে গতকাল সকালে রকিবুল হাসান যখন অগ্রজকে নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন, তখন অন্তিম শয়ানের যাত্রী হয়ে খাঁটিয়ায় শুয়ে বাংলাদেশ দলের প্রথম অধিনায়ক শামীম কবির। পরে রকিবুল হাসানের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা, বিসিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রইসউদ্দিন আহমেদ, বিসিবি পরিচালক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি, সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুসহ সবাই।

গত সোমবার ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন শামীম কবির। ৭৪ বছর বয়সে দেশের প্রথম অধিনায়ক অসীমের পথে পাড়ি জমালেন। তার প্রতি গতকাল শেষ শ্রদ্ধা জানায় বিসিবি ও ক্রীড়াঙ্গনের সবাই। বেলা সোয়া ১১টায় বিসিবি একাডেমি মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। হাল সময়ে কোটি কোটি টাকার এফডিআর, চাকচিক্য রয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। কিন্তু অর্থ, সুযোগ-সুবিধার অপ্রতুলতার শুরুর সময়টাতে শামীম কবির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দেশকে। দেশের ক্রিকেটের অগ্রসেনানী তিনি। ১৯৭৬-৭৭ এ ঢাকায় এমসিসির (মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব) বিপক্ষে বিসিসিবি একাদশের অধিনায়ক ছিলেন শামীম কবির।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন তানভীর মাজহার তান্না, সৈয়দ আশরাফুলের মতো বর্ষীয়ান ক্রীড়া সংগঠকরা। কোচ জালাল আহমেদ চৌধুরী, বিসিবির পরিচালক জালাল ইউনুস, ইসমাইল হায়দার মল্লিক, আকরাম খান, সাবেক ক্রিকেটার শাকিল কাশেম, সাবেক অধিনায়কদের মধ্যে মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, নাঈমুর রহমান দুর্জয়রা ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান মরহুমের কফিনে। বিসিবির লোগো সংবলিত পতাকা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয় কফিন।

গতকাল রকিবুল হাসান বলেছেন, ‘আমি যখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র তখন আজাদ বয়েজের হয়ে শামীম ভাইয়ের সঙ্গে ওপেনিং করেছিলাম। দশম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় পাকিস্তানের লাহোরে তার সঙ্গে লাহোরের বিরুদ্ধে ওপেনিং করেছি। পরে এমসিসির বিপক্ষেও তার সঙ্গে ওপেন করতে নেমেছিলাম।’

জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, নাঈম ইসলামরা এসেছিলেন জানাজায়। তবে ডেঙ্গু সচেতনতার এক অনুষ্ঠানে যাওয়ার তাড়ায় থাকা সাকিব জানাজা শেষ করতে পারেননি।

বিসিবি একাডেমিতে জানাজার পর মরদেহ নেয়া হয় গুলশান আজাদ মসজিদে। সেখানে আরেকটি জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে নরসিংদীর ঘোড়াশালে দাফন করা হয় বরেণ্য শামীম কবিরকে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ গুলশান আজাদ মসজিদে মিলাদ-মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।