স্মলিকে রাখতে গিয়ে বড়ো অঙ্কের অর্থ দিতে হচ্ছে

বাফুফের টেকনিক্যাল এন্ড স্ট্র্যাটেজিক ডিরেক্টর অস্ট্রেলিয়ান পল স্মলির তিন বছরের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৭ আগস্ট। স্মলির সাথে আরো চার বছরের জন্য চুক্তি করতে যাচ্ছে বাফুফে। আলোচনা চূড়ান্ত হয়ে আছে। এখন আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষায়। বেতন আগের চেয়ে বাড়াতে হয়েছে।

জানা গেছে পলের বেতন হবে মাসে ২৫ হাজার ডলার। এর মধ্যে বাফুফে হতে দেওয়া হবে ১৪ হাজার ডলার এবং বাকিটা সংগ্রহ করবেন বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন এবং একজন শীর্ষ কর্মকর্তা। চার বছরে বড়ো অংকের অর্থ গুনতে হবে বাফুফেকে। স্মলিকে রাখতে গিয়েই এই পথে হাঁটতে হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে।

বাফুফে বলছে স্মলি চলে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশে কাজ করতে চায় না। অন্য দেশে আমন্ত্রণ রয়েছে। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ বলেন, ‘চার বছরের জন্য স্মলিকে রাখা হয়েছে। কেউ যদি প্রশ্ন করেন তাঁকে দিয়ে কী কাজ হচ্ছে, সেটা আমরা জানি। জাতীয় পুরুষ ফুটবল দলের সব কাজই পলকে করতে হচ্ছে। জেমিকে নিয়ে কাজ করা, জেমির কোচিং স্টাফকে নিয়ে কাজ করা, গেম প্ল্যানগুলো করা, মেয়েদের ফুটবলে স্মলি নিজেই মাঠে অবস্থান করেন। প্রতি সপ্তাহে অ্যাকাডেমি নিয়ে কাজ করছেন, কোচিং কোর্স করানসহ সবইতো করছেন তিনি।’ 

আরামবাগের কোচ মারুফুল হক ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ান স্মলির কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। মারুফুল হক বললে, ‘উনি আমার ইন্সট্রাক্টর ছিলেন। টিউটর ছিলেন।’ সেই অভিজ্ঞতা থেকে মারুফুল বলেন, ‘স্মলি কোচ এডুকেশন নিয়ে প্রচুর কাজ করেছে। আমাদের দেশে কোচ এডুকেশনটা খুবই দরকার। ফুটবল উন্নয়ন করতে হলে কোচ এডুকেশনের কোনো বিকল্প নেই। স্মলি সেটা করে যাচ্ছে। জাতীয় দলের মেইন প্ল্যানটাই সে করে। গেম প্ল্যান করা, স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা এগুলো করতে হয়।’

মারুফুল হক বললেন, ‘স্মলির সব জায়গা সাকসেস আছে। কোচ এডুকেশনে সাকসেস, মহিলা ফুটবলে সাকসেস, পুরুষ ফুটবলেও সাসকেস বলা চলে।  এরকম লোকের দরকার আছে দেশে।’

২০১৭ সাল হতে এপর্যন্ত কোচিং কোর্সে অংশ নিয়েছে প্রায়  ২০০ জন। বাংলাদেশে কোচিং কোর্সে অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে বলে দাবী বাফুফের। একটা সময় কোচিং কোর্স করতে হতো দেশের বাইরে গিয়ে। এখন হতে বাফুফে নিজেরা কোচিং কোর্স আয়োজন করবে এবং সার্টিফিকেট দিতে পারবে। এজন্য এএফসির অনুমতির প্রয়োজন নেই। সি, বি এবং এ লাইসেন্স কোর্স আয়োজন করে বাফুফে পাশ মার্ক দেওয়ার অধিকার রাখে। সেই বাফুফের দেওয়া সার্টিফিকেট ফুটবল দুনিয়ায় গ্রহণ যোগ্য হবে বলে জানিয়েছে বাফুফে। এমন অধিকার এশিয়ার সব দেশ পায়নি।

কোচিং কোর্স করেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জুয়েল রানা, গোলকিপার কানন, বিপ্লব, আলফাজ, রজনী, সাইফুর রহমান মনি, বিদ্যুত্, গোলাম রাব্বানী ছোটন, চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু। স্মলির কাছে প্রশিক্ষণের সুযোগ নিতে বাংলাদেশে এসে কোর্স করেছে শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নাইজেরিয়া, সিঙ্গাপুর ভারত থেকেও। বাফুফে বলছে দেশে এখন সার্টিফিকেট প্রাপ্ত কোচ প্রায় সাড়ে তিনশত।