হরিণাকুন্ডু (ঝিনাইদহ ) সংবাদদাতা
হরিণাকুন্ডু এবং ঝিনাইদহের একাংশ নিয়ে গঠিত ঝিনাইদহ-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে মাঠে ঐক্যবদ্ধ কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দলের নেতারা। মনোনয়ন পাওয়ার আগে গ্রুপিং দানা বেঁধে উঠলেও মনোনয়ন নিশ্চিতের পর সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে মাঠে নামার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। যদিও এখনো দুই একজন দলের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে।
গত ২৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী তাহজীব আলম সিদ্দিকীর পক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান ও সাবেক কমিটির নেতারা, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ নেতৃবৃন্দ, জেলা ও থানা যুবলীগ নেতৃবৃন্দ, হরিণাকুন্ডু উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের বেশিরভাগ নেতারাই তার পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। আর এখনো বাকি যারা মান অভিমান নিয়ে ঘরে বসে আছেন তারাও প্রার্থীর ডাকের অপেক্ষায় আছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলে দলের বিজয় নিশ্চিত হবে বলেও মনে করেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
অপরদিকে বিএনপি শিবিরে দেখা দিয়েছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কলহ। দল থেকে চার প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরেও বিদ্রোহী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর রবিউল ইসলাম লাভলু। ঝিনাইদহ -২ আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও দীর্ঘ দশ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকায় এবং মামলা হামলায় নেতা-কর্মীরা এখন আর সক্রিয় নন। অনেকে আবার দল বদল করে ক্ষমতাসীনদের সাথে সুবিধাও ভোগ করছেন। তারা আর বিরোধী শিবিরে নির্বাচন করে ঝুঁকি নিতে চাইবেন না। তাছাড়া দলের মনোনয়ন নিয়েও চলছে অন্তর্দ্বন্দ্ব। সাবেক এমপি মসিউর রহমান নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় তার ছেলেকে দিয়ে নির্বাচন করাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। অন্যদিকে তারই চাচাত ভাই জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মজিদ হরিণাকুন্ডু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপির টিকিটে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন। তার মনোনয়নপত্র স্থগিত হলেও আপিলে ছাড় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ৯ ডিসেম্বর উত্তোলনের দিন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বোঝা মুশকিল কে হবেন ধানের শীষের কাণ্ডারি চাচা না ভাতিজা। তাছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও তার সাথে রয়েছে তৃণমূল বিএনপির একটা অংশ। তারা কখনোই চাইবে না মশিউর রহমান বা তার ছেলে নির্বাচনে বিজয়ী হোক। সবমিলিয়ে বিএনপিতে এখন বইছে ভাঙনের সুর।
এই অবস্থা চলতে থাকলে ঝিনাইদহ-২ আসনে নৌকার প্রার্থী জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করেন সচেতন মহল।