ঝিনাইগাতীর কান্দুলী আশ্রয়ণবাসীর ভাগ্যে জোটে না কোরবানির মাংস। অভাব-অনটন, দুঃখ আর দুর্দশাই আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের নিত্যসঙ্গী। এক বেলা খেলে আরেক বেলা জোটে না খাবার। নারী-পুরুষ, শিশুসহ প্রায় চার শতাধিক লোকের বসবাস এখানে।
জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের, কান্দুলী গ্রামে সাড়ে সাত একর সরকারি খাসজমির ওপর ছয়টি শেডঘর নির্মাণ করা হয়। ঐ ছয়টি ঘরে ৬০টি কক্ষ রয়েছে। প্রতিটি কক্ষে একজন করে ছিন্নমূল ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মো. আজাহার আলী জানান, তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হলেও রয়েছে কর্মসংস্থানের অভাব। কর্মসংস্থানের অভাবে ও জীবিকার সন্ধানে অনেকেই পাড়ি জমিয়েছেন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। বছরের দুই ঈদে বাড়ি ফিরে আসেন তারা। শত অভাব-অনটন, দুঃখ আর দুর্দশা বুকে চেপে রেখে এখানে বসবাস করছেন তারা।
আশ্রয়ণ প্রকল্প কমিটির সভাপতি হারুন-উর-রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক দুদু মিয়াসহ আশ্রয়ণের বাসিন্দারা জানান, এ প্রকল্পটি নির্মাণের পর কেউ আর তাদের খোঁজ-খবর নেয়নি। সবাই দিনমজুরি করে কোনোমতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জীবিকানির্বাহ করে থাকে। এ আশ্রয়ণের বাসিন্দারা পায় না উল্লেখযোগ্য কোনো সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা। রোগে-শোকে ও খাদ্যের অভাবে স্বাস্থ্যহীনতায় ভুগছে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ আশ্রয়ণের বাসিন্দারা।
আশ্রয়ণের বাসিন্দা মনোয়ারা, আনোয়ারা, ছাহারা, মাহফুজা আক্ষেপ করে বলেন, ঈদ আসে ঈদ যায়। কিন্তু আমাদের ভাগ্যে জোটে না কোরবানির মাংস। তারা অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি হারুন-উর-রশিদ এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের বিত্তবানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।