খালে ধসে পড়ছে সড়ক

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক খালে ধসে পড়ছে। উপজেলার ১৩ নম্বর মায়ানী ইউনিয়ন ও ১২ নম্বর খইয়াছড়া ইউনিয়নের মধ্যবর্তী সাহেরখালী খালের পাশ দিয়ে যাওয়া শহীদ আবুল বশর সড়কের কাজীরহাট থেকে পশ্চিম ছাগলখাইয়া পর্যন্ত, কাজীরহাট থেকে পূর্ব ছাগলখাইয়া সড়কের অংশ ও কাজীরহাট থেকে কাজীরহাট মাদ্রাসার ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কারণে তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল হুমকির মুখে পড়েছে। 

জানা গেছে, চলতি শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড সীতাকুন্ডের তত্ত্বাবধানে মিরসরাইয়ে সাহেরখালী খালের চার কিলোমিটার, মঘাদিয়া খালের দুই কিলোমিটার ও ডোমখালী খালের চার কিলোমিটার খনন কাজ করা হয়। খালগুলো গড়ে ২২ মিটার চওড়া ও ১ দশমিক ৪৯ মিটার গভীর করে কাটা হয়েছে বলে জানায় ঠিকাদার এস এম আবুল হোসেন। কিন্তু খালগুলো কাটতে গিয়ে খালের দুইপাশে তৈরি হওয়া সড়কের পাশে পর্যাপ্ত জায়গা না রাখায় বর্ষায় সড়কগুলো ভেঙে খালে পড়ে যাচ্ছে।

পশ্চিম ছাগলখাইয়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল আলম, এমরান হোসেন মেম্বারসহ কয়েকজন জানান, খাল কাটার সময় ঠিকাদারকে বারবার বলার পরও সে সড়কের কথা বিবেচনা না করে     এক্সকাভেটর দিয়ে খাড়াখাড়িভাবে খাল খনন করেছে। আবার খাল খননের পর খালের পাড় না বেঁধে সে মাটি বিক্রি করে দিয়েছে। ঠিকাদার নিজের মতো করে খাল খনন করায় এখন সড়ক ভেঙে খালে পড়ে যাচ্ছে।

খাল খনন কাজের দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ড (সীতাকুন্ড) উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুমন প্রমাণিক জানান, ঠিকাদার নিজে থেকে খাল খনন কাজ করিয়েছে। তিনি অন্যকাজে ব্যস্ত থাকায় খনন কাজ দেখতে ঠিকভাবে আসতে পারেননি।

উপজেলা প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড অপরিকল্পিতভাবে খাল খননের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের খালের পাশে থাকা সড়কগুলো ধসে পড়ছে। খাল খনন এবং সড়ক দুইটিই জনগণের জন্য। কিন্তু একটি নষ্ট করে আরেকটির উন্নয়ন কতটুকু জনগণের উপকার হবে তা ভাবা প্রয়োজন। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (চট্টগ্রাম) সাব-ডিভিশনাল প্রকৌশলী আবুল কাশেম ফজজুল হক জানান, ‘খাল খননের জন্য জায়গাও পাওয়া যায় না। এখন খাল খননের পর সড়ক ধসে গেলে তাতে আমাদের কি করার আছে? তবে খাল খননের পর সড়ক ধসে পড়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তিনি সড়কগুলো পরিদর্শন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান’।