আমার মেয়ে তার বাবাকে ফিরে পেল :সুস্মিতা

অপহরণ মামলায় জামিন পেলেন তুষার

৮৯ দিনের শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে আদালত কক্ষে বসেছিলেন সুস্মিতা। অপরদিকে, শুনানি চলছিল অপহরণ মামলায় ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত স্বামী তুষার দাসের জামিন আবেদনের। শুনানিতে হাইকোর্ট জানতে চায়, যেখানে ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণিত হয়নি সেখানে অপহরণের অভিযোগে কিভাবে সাজা দেওয়া যায়? এ বিষয়ে রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ শেষে সুস্মিতার স্বামী তুষারকে জামিন দেয় আদালত। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।

হাইকোর্ট বলেন, আমাদের সমাজে এ রকম অসম বিয়ে হলে সমাজচ্যুত      হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু আইন তো ভিন্ন। একদিকে আইন, অন্যদিকে বাস্তবতা। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। এ বাস্তবতাও ভাবতে হবে। আদালত বলেন, একই দিনে সাক্ষ্য সমাপ্ত, সিআরপিসির ৩৪২ ধারায় আসামিকে পরীক্ষা, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন ও রায় দিয়েছে নিম্ন আদালত। ঐ আদালতের বিচারকের এত উত্সাহ কেন এ মামলা নিয়ে। এখন আমাদের জানতে ইচ্ছে করছে গত ছয় মাসে তিনি কতটা মামলা নিষ্পত্তি করছেন? যদি তুষারের মামলার মতো সকল মামলা নিষ্পত্তি করেন তাহলে তো লাখ লাখ বিচারাধীন মামলা আদালতে পড়ে থাকার কথা নয়।

এদিকে স্বামীর জামিন পাওয়ায় মুখে হাসি ফোটে সুস্মিতার। তিনি বলেন, আদালত আমাকে ন্যায়বিচার দিয়েছে। জামিন আদেশে ছোট্ট মেয়েটা ওর বাবাকে কাছে পাবে। আমি ভালোবেসে স্বেচ্ছায় তুষারকে বিয়ে করেছি। জাতি-ধর্ম-বর্ণ বিবেচনা করে না করে সবাইকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। আমার বাবাকে বলতে চাই—তোমরা ভালো ও সুখে থাকো। যদি পার আমার কাছে এসো, এসে সবকিছু মেনে নাও। কারণ ভালোবাসায় কোনো উঁচু-নিচু বর্ণ নেই।

শরীয়তপুরের সুস্মিতা ও তুষার ভালোবেসে বিয়ে করেন প্রায় দুই বছর আগে। তাদের কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে এক কন্যা সন্তান। কিন্তু শুরুতেই এই বিয়ে মেনে নিতে না পেরে মেয়ে নাবালিকা—এই অভিযোগ তুলে তুষারের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা করা হয়। ঐ মামলায় তুষারকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় শরীয়তপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা জজ আ. ছালাম খান। এর বিরুদ্ধে আপিল করেন তিনি। শুনানিতে তুষারের পক্ষে অ্যাডভোকেট শিশির মো. মনির শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারোয়ার হোসেন।

প্রসঙ্গত, মামলার বিচার চলাকালে আট মাস জেলহাজতে ছিলেন তুষার, পরে জামিন পান। ২৩ জুলাই রায় ঘোষণার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন।