যখন অনলাইনে অথবা আশপাশে ‘আত্মহত্যার’ কোনো নিউজ দেখি বা শুনি সর্বপ্রথম চিন্তা আসে, ‘কেন এমনটা করলো? কত কষ্ট লুকিয়ে ছিল তার?’
ঢাবির ছাত্রদের বিভিন্ন সময়ে আত্মহত্যার খবর প্রায়ই পাওয়া যাচ্ছে। সমবেদনা আর কয়েকটি কমেন্ট, এরপর সব অতীত। বিষয়টা নিয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা দরকার। আদৌ কি তা হচ্ছে প্রয়োজন অনুযায়ী।
সকলেই নিজের জীবনকে সবথেকে বেশি ভালোবাসে। তবে, ‘কেন এই আত্মহত্যা?’
কিছু কিছু মানুষ আবেগী অথবা ভুলবশত নিজের সুখগুলো অন্যের মাঝে খুঁজতে শুরু করে। আর তখনই সমস্যার শুরু। নিজের জগত্টার সবকিছুতেই সেই অন্য আরেকটি জগত্ এর প্রভাব। হতে পারে সেটি তার প্রেমিক/প্রেমিকা (বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাই হয়), হতে পারে সেটি মা-বাবা, বন্ধু-বান্ধব অথবা ভাই-বোন।
কখনো কেউ চিন্তা করতে পারবেন না যে কতটা অসহায়ত্ব, কতটা কষ্ট আর কতটা বিবর্ণ হয়ে, গ্লানি আর ব্যর্থতা মেনে নিয়ে জীবন একেবারেই শেষ করে দেওয়ার চিন্তা করে কেউ অথবা সেটা কার্যকর করে। শুধুমাত্র যারা এমন পদক্ষেপ নিয়েছে তারাই জানে এটি কত কঠিন, নিজের হাতে নিজেকে শেষ করা।
আমার নাম আশা। নামটি আমার খুব পছন্দের। প্রচণ্ড আশাবাদী মেয়ে আমি। ঠিক নামের মতোই। যেখানে সকলে আশাহত হয়ে কোনোকিছুরই প্রত্যাশা করি না সেখানেও আমি আশায় বাঁধি ঘর। অথচ এই আমিও কোনো একদিন আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এবং একবার চেষ্টাও করেছিলাম (কেউ একজন বাঁচিয়ে ছিলেন)। এজন্য জানি কেন এমন সিদ্ধান্ত নেয় কেউ এবং এটা যে কত বড় বোকামি তা এখন বুঝি।
প্রথমেই বলি কেন অন্য কারো সুখের জন্য নিজের জীবন শেষ করবেন? আমি তো দিব্যি বেঁচে আছি। ভালো আছি, ভীষণ ভালো। দুঃখ আর নাগাল পায় না আমার। কারণ এখন সবার আগে আমি আমার নিজস্ব একটা জগত্ তৈরি করেছি এবং এ জগত্টাকে বড্ডবেশি ভালোবাসি।
যারা নিজেদেরকে বেশি অসহায় বা কোনো কিছুর অযোগ্য মনে করেন তাদের জন্য বলছি-নিজের আলাদা একটা জগত্ তেরি করুন। নিজেকে ভালোবাসুন। নিজের ছোট ছোট খেয়াল-খুশিগুলোকে প্রাধান্য দিন। অবশ্যই পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক গাঢ় করুন। সত্যিকার বন্ধুদেরকে বের করুন। যারা আপনাকে ভালোবাসে বলে অথচ আপনার এই খেয়াল-খুশির কোনো মূল্য নেই এমন মানুষগুলোকে ঝেড়ে ফেলুন। তারা ঠিক ততোটাই গুরুত্বহীন আপনার কাছে যতটা আপনার আবেগগুলো তাদের কাছে।
এই কঠিন (আত্মহত্যার) পথটা আপনাকে শেষ করে দিবে। নিজেকে শেষ করার পূর্বে যারা আপনাকে ভালোবাসে তাদের কথা শেষবারের মতো চিন্তা করুন। যা পাননি সেটা নিয়ে চিন্তা না করে যা পেয়েছেন সেগুলো নিয়ে চিন্তা করুন। যেকোনো বিষয় পজিটিভলি ভাবুন। সাইকোলজিস্ট এর সাহায্য নিন। অথবা নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া করুন। নিজের মনকে বোঝার চেষ্টা করুন। ভালোলাগার কাজগুলোকে প্রাধান্য দিন। সফলতা অবশ্যই আসবে।
n লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।