খুবিতে ১৩ দফা ঘোষণার মধ্য দিয়ে উপকূলীয় পানি সম্মেলন সমাপ্ত

পানিকে শুধুই ‘সম্পদ’ বিবেচনা না করে প্রতিবেশের একটি মৌলিক উপাদান বিবেচনায় নিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলের সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণসহ ১৩ দফা ঘোষণার মধ্য দিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) দুদিনব্যাপী ‘দ্বিতীয় উপকূলীয় পানি সম্মেলন’ শেষ হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে খুবির আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে এ সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সমাপনী অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে কেসিসি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক সভাপতিত্ব করেন। 

১৩ দফা ঘোষণার মধ্যে রয়েছে—পানিকে শুধুই ‘সম্পদ’ বিবেচনা না করে প্রতিবেশের একটি মৌলিক উপাদান বিবেচনায় নিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলের সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, উপকূলীয় এলাকার সংবেদনশীল প্রতিবেশিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান পানি সংকট নিরসনে প্রাজন্মিক সমাধানে স্বতন্ত্র নীতিমালা প্রণয়ন ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, এই অঞ্চলের ভূ-উপরিস্থ পানির উত্সসমূহ তথা প্রাকৃতিক এবং রাষ্ট্রীয় জলাধারসমূহ (পুকুর, খাল ইত্যাদি) লিজ প্রদানের প্রথা/আইন বাতিল করে এগুলো খাবার পানি, কৃষি-সেচ, ঘর গৃহস্থালির ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ এবং এ সংক্রান্ত বিষয় সরকারের একক মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় নির্দিষ্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন, বিধি ও নীতিমালা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণ, উপকূলীয় অঞ্চলের সামগ্রিক পানি ব্যবস্থাপনা, জোয়ার ভাটা প্রবাহ, পরিবেশ-প্রতিবেশ, জীব-বৈচিত্র্য, উপকূলীয় জীবন-জীবিকা এবং সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিবেচনায় নিয়ে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে লোকজ জ্ঞান ও স্থানীয় মানুষের কার্যকরী অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ, সকল প্রকার অবকাঠামো নির্মাণে এই অঞ্চলের পানি প্রবাহের গতি-প্রকৃতি ও পরিবেশ-প্রতিবেশগত ক্রিয়া-বিক্রিয়া বিবেচনায় আনা ইত্যাদি।

সম্মেলনের সমাপনী দিনের প্রথমপর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন্নাহার এমপি।