চ্যাম্পিয়ন হওয়া উচিত ছিল:মুমিনুল

ভারতের কর্ণাটকে ড. কে থিম্মাপিয়া মেমোরিয়াল চার দিনের ম্যাচের টুর্নামেন্ট তথা মিনি রঞ্জি ট্রফি খেলে গত বৃহস্পতিবার বিকালে দেশে ফিরেছিল বিসিবি একাদশ। সেমিফাইনালে ছত্তিশগড় রাজ্য ক্রিকেট সংঘের কাছে সেমিফাইনালে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে মুমিনুল হকের দল।

সেমিতে খেললেও গতকাল বিকেলে মুঠোফোনের অন্যপ্রান্তে অতৃপ্তিতে ভরা কণ্ঠেই ধরা পড়লেন বিসিবি একাদশের অধিনায়ক। ফাইনাল না খেলতে পেরেই যত আক্ষেপ মুমিনুলের। শুধু ফাইনাল খেলা নয়, এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। তবে সেমিতে ইনজুরিতে পড়া নাঈম হাসান ও শহীদুল ইসলামের মতো দুই মূল বোলারকে না পাওয়া বড় ধাক্কা ছিল দলের জন্য।

টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে নিজের পারফরম্যান্সেও সন্তুষ্ট হতে পারেননি মুমিনুল। টুর্নামেন্টের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা দেখে বিমুগ্ধ তিনি। তার মতে, উইকেট-কন্ডিশন,  সার্বিক মান বিবেচনায় পরবর্তী প্রজন্মের উন্নতির জন্য বিসিবির উচিত প্রতি বছর এই টুর্নামেন্টে দল পাঠানো।

চার গ্রুপে টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে ১৬টি দল। ‘বি’ গ্রুপ থেকে সেরা দল হয়ে সেমিতে গিয়েছিল বিসিবি একাদশ। গতকাল নিজের দলের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে মুমিনুল বলেছেন, ‘আমি টেস্ট প্লেয়ার হিসেবে ছিলাম। আরো অনেক টেস্ট প্লেয়ার ছিল। সেদিক থেকে চিন্তা করলে আমার মনে হয় যে, ফাইনাল খেলা উচিত ছিল। এমনকি চ্যাম্পিয়ন হওয়াও উচিত ছিল। অধিনায়ক হিসেবে আমি চ্যাম্পিয়ন হতে গেছিলাম। আমি এই টার্গেট নিয়েই গেছিলাম। যারা খেলছে, তারা হয়তো অনেকে সেমিফাইনালে খুশি। আমার কাছে মনে হয় ফাইনাল খেলা উচিত ছিল, চ্যাম্পিয়ন না হন, অন্তত সেমিতে খেলা উচিত ছিল।’

টুর্নামেন্টে নিজেদের সফলতার বিচার করতে গিয়ে মুমিনুল বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় আমরা ৫০ ভাগ সফল।’

মিনি রঞ্জি ট্রফির সামগ্রিক আবহ নিয়ে বাঁহাতি এই টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান বলেছেন, ‘পরিবেশ যদি বলেন, আসলে এরকম টুর্নামেন্ট আমি কখনো খেলিনি। আমার দেখা মতে, বাংলাদেশে তো হয় না এমন টুর্নামেন্ট। খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, পেশাদার খেলা হয়। সুযোগ-সুবিধা খুব ভালো। বিশেষ করে অনুশীলনের, ম্যাচের দিনের সুযোগ-সুবিধা খুব ভালো ছিল। ওরা অনেক পেশাদার। এবং আম্পায়ারিংও খুব ভালো মানের। আমি এরকম আম্পায়ারিং দেখিনি।’

টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই একটি সেঞ্চুরি করেছিলেন মুমিনুল। তারপর আর এমন বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। নিজের ব্যাটিং নিয়ে গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় যে, টেস্ট প্লেয়ার হিসেবে আমার আরো দুটি সেঞ্চুরি করা উচিত ছিল। না হয় অন্তত একটা ডাবল সেঞ্চুরি দরকার ছিল। তিনটা সেঞ্চুরি বা দুটি ডাবল সেঞ্চুরি হলে ভালো হতো। আমি একটি ডাবল মিসও করেছি। আমার মতো, টেস্ট প্লেয়ার কিন্তু কেউ ছিল না। সেদিক থেকে আমার পারফরম্যান্স আরো ভালো হওয়া উচিত ছিল।’

সেমিতে অফ স্পিনার নাঈম হাসানকে পায়নি বিসিবি একাদশ। ইনজুরিতে পড়েছিলেন তিনি। ম্যাচ শুরু হলে ৫ ওভার বোলিং করে ইনজুরিতে পড়েন পেস বোলার শহীদুল ইসলামও। মুমিনুল বলেন, ‘আমি যেটা ঘাটতি দেখছি, বোলিংয়ে। আমি সেমিফাইনালটাও জিততাম। দুইটা বোলার ইনজুরিতে পড়ে যায়। সেমিফাইনালের আগেই নাঈম হাসান ইনজুরিতে পড়ে। খেলা শুরু হওয়ার পর ৫ ওভার বল করে আমার মেইন বোলার শহীদুল ইনজুরিতে পড়ে যায়। মানে আমার দুইটা বোলার নেই। এমন দুইটা বোলার যখন থাকবে না, তখন অধিনায়ক হিসেবে কাজটা কঠিন হয়ে যায়। আমার কাছে মনে হয়, ওই দুইটা বোলার থাকলে আমি চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফিরতাম।’