ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কর্তৃপক্ষের জারি করা নজিরবিহীন ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্যেও ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন দেশটির কিছু নাগরিক।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ফাইবার অপটিক সেবা প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকলেও দেশের ভেতরে থাকা অন্তত তিনজন ব্যক্তি এখনো স্টারলিংক ব্যবহারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিশেষ করে পশ্চিম ইরানের সীমান্তবর্তী শহর ও জনপদগুলোতে ব্যক্তিগত পর্যায়ে স্টারলিংক টার্মিনাল ব্যবহারের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীরা বাইরের বিশ্বে আন্দোলনের তথ্য ও ভিডিও আদান-প্রদান করছেন। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার এই চরম মুহূর্তে স্টারলিংকের ব্যবহার বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকসের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই দেশব্যাপী ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট গত সোমবারও অব্যাহত ছিল। নেটব্লকসের প্রতিষ্ঠাতা আলপ টোকার জানিয়েছেন যে, স্যাটেলাইট সংযোগ ছাড়া বর্তমানে ইরানে সাধারণ ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে।
যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ স্টারলিংককে ব্লক করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে এবং কিছু এলাকায় সিগন্যাল জ্যামিংয়ের মাধ্যমে সংযোগ দুর্বল করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তবুও পুরোপুরি এই সেবা অচল করা সম্ভব হয়নি। টোকারের মতে, ইরানে স্টারলিংক সংযোগ এখন খণ্ড খণ্ড বা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকলেও এটি এখনো তথ্য পাওয়ার একটি অন্যতম মাধ্যম হিসেবে টিকে আছে।
ইরানের পশ্চিম অঞ্চলের একজন বাসিন্দা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে অন্তত কয়েক ডজন মানুষকে চেনেন যারা বর্তমানে স্টারলিংক ব্যবহার করছেন। শহরের কেন্দ্রস্থলগুলোতে জ্যামিংয়ের প্রভাব বেশি থাকলেও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ব্যবহারকারীরা তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন।
স্পেসএক্সের মালিকানাধীন স্টারলিংক অবশ্য ইরানে তাদের সেবার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রয়টার্সের করা মন্তব্যের অনুরোধে এখনো কোনো সাড়া দেয়নি। অন্যদিকে, ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন থাকায় এ বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরান সরকার বর্তমানে স্টারলিংক টার্মিনালগুলো শনাক্ত করার চেষ্টা করছে এবং স্যাটেলাইট থেকে আসা সংকেত বাধাগ্রস্ত করতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তাসত্ত্বেও স্টারলিংকের এই সক্রিয়তা প্রমাণ করে যে, ডিজিটাল সেন্সরশিপের যুগে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি এখনো তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমানে ইরানে চলমান প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের সঠিক চিত্র বহির্বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই সীমিত ইন্টারনেট সংযোগই বিক্ষোভকারীদের প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স