নামে গোল ফল হলেও দেখতে মোটেও গোল নয়, তবে স্বাদে একেবারেই অনন্য। সুন্দরবনে জন্ম নেওয়া এই ব্যতিক্রমী ফল এখন উপকূল পেরিয়ে পর্যটকদের নজর কাড়ছে। বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হচ্ছে গোল ফল, প্রতিটি ফলের দাম মাত্র ১০ টাকা।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট থেকে নদীপথে সুন্দরবনের দূরত্ব কম। ৯০ দশকের দিকে জোয়ারের পানির চাপে সুন্দরবন থেকে গোল পাতার বীজ ভেসে এসে বাগেরহাটের সদর চিতলমারী ও ফকিরাটের কিছু অংশে জন্ম নেয় গোলগাছ।
গোলপাতা দিয়ে ঘরের ছাউনি হচ্ছে। স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে অন্য এলাকায় বেপারীদের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে এই গোল ফল। প্রতিদিন এসব এলাকায় ফল ব্যবসায়ীরা এসে বাগান মালিকের কাছ থেকে ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছে। গোলগাছে ভাদ্র-আশ্বিন মাসে ফুল ফোটে এবং কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে তা ফলে রূপ নেয়।
ফলের বাইরের অংশ শক্ত হলেও ভেতরে থাকে লিচুর মতো খাওয়ার উপযোগী নরম শাঁস। সামান্য লবণ ও হালকা মিষ্টির ছোঁয়ায় এর স্বাদ আরও বেড়ে যায়, যা অনেক পর্যটকের কাছেই নতুন ও আকর্ষণীয়।
উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের কাছে গোল ফল পরিচিত হলেও দেশের অন্যান্য জেলার মানুষের কাছে এটি এখনও অনেকটাই অপরিচিত। ফলে পর্যটনের মৌসুমে এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। শুধু সুন্দরবন নয়, উপকূলীয় এলাকার নিচু জমি ও বসতবাড়ির আঙিনাতেও গোলপাতার গাছ দেখা যায়। সেখান থেকেই ব্যাপারীরা ফল সংগ্রহ করে বাজারে সরবরাহ করছেন।
ষাট গম্বুজ মসজিদে ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছে গোল ফল এখন বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। এক দর্শনার্থী বলেন, ‘ছোটবেলায় গাছ থেকে পেড়ে গোল ফল খেতাম। এখনকার বাচ্চারা এই ফলের নামই জানে না। ষাট গম্বুজের সামনে গোল ফল দেখলে শৈশবের স্মৃতি ফিরে আসে।’
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটনের মৌসুমে ষাট গম্বুজ মসজিদ এলাকায় গোল ফলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। অনেকসময় পর্যটকরা এই ফল উপহার হিসেবেও কিনে নিয়ে যায়, যা স্থানীয়দের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করছে।
সুন্দরবনের এই ঐতিহ্যবাহী ফল এখন পর্যটনের হাত ধরে নতুন পরিচয়ে ফিরছে। তাই স্বাদ আর স্মৃতির মেলবন্ধনে সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন গোল ফল।