ডেঙ্গু আতঙ্কে বস্তিবাসী

ডেঙ্গুর ভয়ে আতঙ্কিত বস্তিবাসী। বিশেষ করে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে তাদের শিশুরা। বস্তিবাসীরা এমনিতেই সারা বছর সর্দি-কাশি-জ্বরসহ নানা রোগে ভোগে। এরই মধ্যে তাদের ভীতি এডিস মশার আক্রমণ। মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় এখনো পুরোপুরি হাউজিং প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় সেখানে গড়ে উঠেছে নিম্ন আয়ের মানুষের বসতি। কথা হয়, রিকশাচালক মালেক মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে ছেলেপুলের জ্বরজারি প্রায় হয়। আবার ভালোও হয়, তয় কোনটা ডেঙ্গু জ্বর, কোনটা অন্য জ্বর আমরা বুঝবার পারি না। ’ একই কথা শোনা যায় শ্যামলী পুলপাড়ের বস্তিতে থাকা গৃহকর্মী আনোয়ারা বেগমের মুখেও। তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করেই দুই বাচ্চা নিয়ে সংসার চালান। বলেন, ‘বাচ্চাদের জ্বরের কারণে আইজ তিন দিন কামে যাইতে পারি নাই। হাসপাতাল থ্যাইকা জ্বরের ওষুধ আনচি। বড়ো মেয়েটার জ্বর ভালো হইছে, কিন্তু ছোটো ছেলেটার এখনো ভালো হয় নাই।’ আনোয়ারা বলেন, ‘বস্তিত থাকলে মশা কামরাইবোই, কিন্তু চারদিকের কথা শুইন্যা, বাইচ্চারা ডরে আছে। ভাবতাছে ডেঙ্গু না জানি ক্যামন ভূত। এখন মশারি লাগাই রাহি বাচ্চাগো।’ বস্তিবাসীর নেত্রী আসমানী বেগম বলেন, ‘আমরা এমনিতেই রোগে জর্জরিত, আবার এখন শুনতাছি ডেঙ্গু। আমরা যাব কোথায়। বস্তিবাসীরা খুব কষ্টে দিন কাটায়। ডেঙ্গুর কারণে বস্তির মানুষ খুবই আতঙ্কিত। অনেকেই জ্বর হইছে কিন্তু তারা জানেনা ডেঙ্গু কি না।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের লোকজনের দরকার আমাদের বস্তিতে এসে খোঁজখবর করা।

ডেঙ্গু সচেতনতায় কাজ করছে মোহাম্মদপুর পাইওনিয়ার হাউজিংয়ের তিনটি কিশোরী সংগঠন। এই কিশোরী সংগঠনগুলোর নাম—শাপলা, সুখপাখি ও রজনীগন্ধা। প্রচারাভিযানে অংশ নেওয়া রেশমা জানায়, ‘আমরা বস্তির ঘরে ঘরে গিয়ে সবাইকে ডেঙ্গু সম্পর্কে বলছি। আমরা চাই বস্তির কেউ যেন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত না হয়। তাদের বেশি করে লেবুর শরবত, পানি পান করতে বলছি। জ্বর হলে অবহেলা না করে যেন হাসপাতালে যায়। আমরা নিম্ন আয়ের মানুষকে সচেতন করতে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে পাইওনিয়ার হাউজিংয়ে প্রচারাভিযান চালিয়েছি। বস্তিবাসীদের সচেতন হওয়ার জন্য নানান পরামর্শ দিচ্ছি।’

বস্তি ও বস্তিবাসী নিয়ে কাজ করা সংগঠন বারসিকের প্রকল্প সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ঢাকা শহরে এক দুর্যোগপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে। আমরা বারসিকের পক্ষ থেকে চেষ্টা করছি মানুষকে সচেতন করতে। আমরা আহ্বান জানাই সব সচেতন মানুষ এই দুর্যোগে এগিয়ে আসুক নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী। বস্তিবাসীদের সতর্ক হয়ে থাকার অনুরোধ করেন এবং প্রয়োজনে সিটি করপোরেশনের হেলপ ডেস্কে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি। তিনি বলেন, জ্বর হলেই ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে সব সরকারি হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাই বস্তিবাসীরা নির্দ্বিধায় হাসপাতাল থেকে চিকিত্সা নিতে পারে। সমাজের সব স্তরের মানুষকে এ সংকট মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে। সচেতন মানুষ এ পরিস্থিতিতে বসে থাকতে পারে না। তাই যে যার জায়গা থেকে ভূমিকা পালন করবেন।

প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বস্তির মানুষ দরিদ্র, তাদের জন্য কখনোই বিশেষ কোনো ব্যবস্থা থাকে না। কারণ, তাদের স্বাস্থ্যসচেতনতা এমনিতেই কম। তবে ডেঙ্গুর জন্য বস্তি বা অভিজাত এলাকা আলাদা কোনো গুরুত্ব বহন করে না। এডিস মশা যেন জন্মাতে না পারে, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। সেটা বস্তি হোক আর অভিজাত এলাকাই হোক।