‘ছাতার পাথার’ এখন কচুরিপানার খেত

নীলফামারীর সৈয়দপুরের পার্শ্ববর্তী ছাতার পাথার এখন কচুরিপানার খেতে পরিণত হয়েছে। কচুরিপানায় ছেয়ে গেছে পুরো ছাতার পাথার। পাথার জুড়ে এখন কচুরিপানার ফুল। সৃষ্টি হয়েছে অপরূপ এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের।

প্রকৃতিপ্রেমীদের টানে কচুরিপানার এই অপরূপ সৌন্দর্য। মন চায় বিশাল খেতের রূপবতী প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটাতে। কিন্তু তা আর নয়। সময় এসেছে জমিতে চাষ দেওয়ার। কৃষক জমিতে ফসল লাগাবে মানুষের অন্নের চাহিদা পূরণ করতে। আর কিছুদিনের মধ্যে জমিতে আধুনিক লাঙ্গল লাগিয়ে জমির বুক চিড়ে দিবে কৃষক। ফলাবে সোনালি ফসল। তখন হারিয়ে যাবে মাঠের কচুরিপানা। সৌন্দর্য প্রদর্শনকারী কচুরিপানা নিয়ে কিছুটা বিপাকেও পড়েছে কৃষক। ঘন কচুরিপানার দখলে হারিয়ে গেছে উর্বর মাটি। কচুরিপানার গাছগুলো উচ্চতায় বেড়েছে দুই-তিন ফুট। ফলে জমিতে হাঁটলে মাটি পাওয়া যায় না, পা পড়ে কচুরিপানার ওপর। তোবারক হোসেন নামের এক কৃষক জানান, কচুরিপানা আমাদের আবাদি জমি দখল করি নিছে, ধান লাগাবো কেমন করি। স্থানীয় কীটনাশক ব্যবসায়ী মো. আজিজুল জানান, কচুরিপানার গাছগুলো আগে মেরে ফেলতে হবে। তারপর পচে গেলে জমি চাষ করে ধান লাগানো যাবে অথবা জমিগুলোকে দুই বা তিন দফা চাষ দিলে কচুরিপানা হারিয়ে যাবে ফলে জমি ধান চাষের উপযোগী হবে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন কচুরিপানা পচে সবুজ সার উত্পন্ন হয়, যা জমির ফসল ফলানোর ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ছাতার পাথার ঐ এলাকার বৃহত্তর পাথারগুলোর একটি। রংপুরের বদরগঞ্জ, নীলফামারীর সৈয়দপুর ও দিনাজপুরের পার্বতীপুর এই তিন উপজেলার মিলন ঘটিয়েছে ছাতার পাথার। বিশাল আকারের এই ছাতার পাথার বিভক্ত হয়েছে কোথাও নদীর দ্বারা, কোথাও বা রাস্তার দ্বারা।

কথিত আছে, বহুকাল আগে গরুর লাঙ্গল লাগিয়ে এ পাথারের মাঝে জমি চাষ করেছিলেন এক কৃষক। প্রচণ্ড রোদ ও উত্তাপের কারণে বারবার গা ভিজে যায় ঘামে। পানির তৃষ্ণা আর পেটের ক্ষুধায় জানটা বুঝি বের হয়ে যায়। বারবার মাথা তুলে চোখ বাঁকিয়ে তাকায় বাড়ির দিকে। এই বুঝি বউ আসছে ভাত আর পানি নিয়ে। বেলা বাড়তেই থাকে তবুও বউয়ের  রান্না, সন্তান ও সংসারের কাজ শেষ হয় না। অবশেষে সূর্য যখন মাথার ওপর আসে তখন ঐ দূরে দেখা যায় বউ আসছে এক হাতে পানি, অন্য হাতে ভাতের বাটি নিয়ে। কৃষক হাতের পেন্টি দিয়ে ইশারা করে আরো তাড়াতাড়ি আসতে। দেরিতে ভাত নিয়ে আসায় স্বামী রেগে আছেন এবং কাছে গেলে হয়তো পেন্টি দিয়ে মেরেই ফেলবে তাকে, এই ভয়ে বউ ভাতের বাটি ফেলে দিয়ে বাড়িমুখে দৌড় দিতে থাকে। স্বামীও দৌড় দেয় বউয়ের পিছে। জমির আইল পিছলে তৃষ্ণার্ত স্বামী পড়ে যায় এবং তত্ক্ষণাত্ স্বামী মারা যায়। তখন থেকে বলা হয় ভাতার (স্বামী) মারার ছাতার পাথার।