খুলনায় ৩৭ পশুর হাটের নিরাপত্তা জোরদার

খুলনা মহানগরীর জোড়াগেটসহ জেলার নয় উপজেলায় ৩৭টি পশুর হাটে তিন স্তরের পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পশুর হাটগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ইজারাদারদের উত্সাহিত করা হচ্ছে। পশুবাহী ট্রাক জোরজবরদস্তি করে কোনো হাটে না নামানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণের লক্ষ্যে মেশিন স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) পরিচালিত নগরীর জোড়াগেটে আগামী মঙ্গলবার থেকে পশুর হাট বসবে। ইতিমধ্যে জোড়াগেটে পশুর হাটের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এখানে নিরাপত্তার জন্য খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) এক প্লাটুন সদস্য নিয়োজিত থাকবে। এই হাটে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কোরবানির আগের রাত পর্যন্ত এই হাট চলবে।

পুলিশ, প্রাণিসম্পদ ও জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, যেসব স্থানে পশুর হাট বসবে, সেগুলো হচ্ছে রূপসা উপজেলার পূর্ব রূপসা, দুর্জনীমহল আমতলা, দক্ষিণ খাজাডাঙ্গা হাতেমতলা, আলাইপুর ব্রিজের নিচে, তেরখাদা উপজেলার ইখড়ি কাটেঙ্গা, বিলদুরিয়া, দীঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর হরিপদ মাঠ, পথেরবাজার হাইস্কুল মাঠ, এম এ মজিদ কলেজ মাঠ, মোল্লাডাঙ্গা, মোল্লা জালাল উদ্দীন কলেজ মাঠ, ফুলতলা উপজেলার তাজপুর, ডুমুরিয়া উপজেলার শাহাপুর, খর্ণিয়া, চুকনগর, বানিয়াখালী কলেজ মাঠ, আঠারো মাইল হাট, দাকোপ উপজেলার চালনা বাজার, বাজুয়া বাজার, পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী, কাশিমনগর, গদাইপুর, বাঁকা বাজার, পাইকগাছা জিরো পয়েন্ট, কয়রা উপজেলার ঘুগরাকাটি, বাগালী ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ, দেউলিয়া, উত্তর বেদকাশী কাছারিবাড়ি, গিলবাাড়ি, হায়াতখালী, বামিয়া ইসলামপুর, কয়রা জিআইবি ক্লাবের মাঠ, বটিয়াঘাটা উপজেলার খারাবাদ বাইনতলা, ভান্ডারকোট, বারোআড়িয়া ও উপজেলা সদর।

খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. আনিচুর রহমান জানান, কোরবানির পশুর হাটগুলোতে তিন স্তরের পুলিশি নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি, হাটে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন এবং হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে নিরাপত্তা প্রদান।

গত ২১ জুলাই জেলা প্রশাসন আয়োজিত ঈদ-উল-আজহার প্রস্তুতি সভায় বলা হয়েছে, বিনা অনুমতিতে যত্রতত্র পশুর হাট বসানো যাবে না। অননুমোদিত পশুর হাটের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকায় গরুর হাট স্থাপন করা যাবে না।

প্রস্তুতি সভার অপর এক সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, পশুর হাট কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জেনারেটর চালু রাখা প্রয়োজন। এ ছাড়া কেএমপি কমিশনার ও পুলিশ সুপারের হটলাইন নম্বরে জনগণকে অবহিত করার জন্য বলা হয়েছে।