নির্ধারিত সময়সীমার পরও তালিকাভুক্ত প্রকৃত কৃষকদের ফিরিয়ে দিয়ে কমলগঞ্জে খাদ্যগুদামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষি বিভাগ ও খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করেছেন বলে কৃষক ও ইউপি চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। তবে খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ ও কৃষি কর্মকর্তা এক্ষেত্রে অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেছেন।
উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত কৃষক মাছিম আলী, সানুর মিয়া, সুরেন্দ্র সরকার, আজিজ খান ও সেলিম রাজা অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সরকারি গুদামে ধান বিক্রির জন্য তাদের ১৮ জনের তালিকা দেয়া হয়। ১৮ জন কৃষকের ১৮ মেট্রিক টন ধান বিক্রি করার কথা। ১৮ জন কৃষক উপজেলা সদরের ভানুগাছ খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ তালিকার ১০ জনের কাছ থেকে ১ হাজার ৪০ টাকা মন দরে ধান ক্রয় করেন। নানা অজুহাতে অন্য আট জনকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কৃষকরা আরো বলেন, এই আট জন কৃষকের বদলে নগদ সুবিধা গ্রহণ করে কয়েক জন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হয়েছে।
অভিযোগ করে আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, ৩১ জুলাই ধান ক্রয়ের শেষ তারিখ থাকলেও কৃষি অফিস থেকে ১০ জুলাই চিঠি দেয়া হয় এবং বলা হয় ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে ধান দিতে হবে। আমি ১৮ জুলাই ১৮ জন কৃষকের তালিকা প্রদান করি এবং তালিকা থেকে ১০ জন কৃষকের ধান ক্রয় করা হয়। অন্য আট জন ২৩, ২৪ ও ২৫ জুলাই খাদ্যগুদামে গিয়ে ধান বিক্রির চেষ্টা করেও বিক্রি করতে পারেননি। অথচ ৩১ জুলাই পর্যন্ত ধান কেনার নির্ধারিত তারিখ ছিল। তিনি আরো বলেন, তালিকার আট জন কৃষকের কাছ থেকে ধান না কিনে কাদের তালিকা থেকে কীভাবে ধান কেনা হলো বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।
চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন আরো বলেন, একটি সিন্ডিকেট করে কৃষি বিভাগ ও খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ তার ইউনিয়ন থেকে আট মে.টন ধান ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ক্রয় করেছে। বিষয়টি তিনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন।
কমলগঞ্জের ভানুগাছ খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা সবিতা রানী দেব জানান, আদমপুরের তালিকাভুক্ত কৃষকরা ধান জমা করতে বিলম্ব করেছিলেন। খাদ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, যে কৃষকরা আগে আসবেন, তাদের ধান আগে গ্রহণ করা হবে। সে হিসেবে আদমপুরের পিছিয়ে পড়া আট জন কৃষকের স্থলে তালিকাভুক্ত আরও আট জন কৃষকের কাছ থেকে আট মে.টন ধান ক্রয় করা হয়েছে। ১৮ জন কৃষকের মধ্যে আট জনের নামের ধান ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কেনার অভিযোগ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান বলেন, চেয়ারম্যান তালিকা দিতে দেরি করেছেন এবং কৃষকরাও যথা সময়ের মধ্যে ধান দিতে পারেননি। ফলে তৃতীয় তালিকায় কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হয়েছে। ৩১ জুলাই পর্যন্ত ধান ক্রয়ের শেষ তারিখ ছিল।
কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন চৌধুরী বলেন, আদমপুর ইউনিয়নের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। উপজেলা সমম্বয় কমিটির সভায় এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তারা ময়লার কারণে ও শুকনো অবস্থায় না থাকায় ধান কিনতে সমস্যা হচ্ছে বলে দাবি করেন।