ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

ইয়েমেনের ইরান-পন্থী হুথি গোষ্ঠী এবং তাদের অর্থায়নকারী নেটওয়ার্কের ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। 

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে অব্যাহত হামলা এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। 

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দফায় ২১ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবং একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হুথিদের অস্ত্র ও তেলজাত পণ্য পাচার এবং তহবিল সংগ্রহের সক্ষমতা কমিয়ে আনাই ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ (ওএফএসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নতুন এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ইয়েমেন, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত বেশ কিছু ভুয়া বা ‘ফ্রন্ট’ কোম্পানি রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত হুথিদের জন্য অর্থ সংগ্রহ এবং সামরিক সরঞ্জাম ও দ্বৈত ব্যবহারের উপযোগী যন্ত্রাংশ সরবরাহে সহায়তা করে আসছিল। 

মার্কিন অর্থ সচিব স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন যে, ‘হুথিরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত হবে এবং মার্কিন নাগরিকদের তাদের সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, হুথিদের বিশাল আয় ও চোরাচালান নেটওয়ার্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই গোষ্ঠীটি লোহিত সাগরে হামলা চালানোর মতো সক্ষমতা ধরে রাখতে পারছে। 

মূলত ২০২৩ সাল থেকে হুথিরা গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে এবং ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বলে বিবেচিত জাহাজগুলোতে নিয়মিত আক্রমণ চালিয়ে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপ হুথিদের সেই আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তৈরির কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা আশা করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মদদপুষ্ট ছায়াশক্তি বা প্রক্সি বাহিনীগুলোর ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত চাপ তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাবকে দুর্বল করে দিচ্ছে। হুথিরাও বর্তমানে এই চাপের মুখে রয়েছে। 

লোহিত সাগর দিয়ে যাতায়াতকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই গোষ্ঠীটির হামলার কারণে হুমকির মুখে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ দিন ধরেই হুথিদের অর্থায়নের উৎসগুলো বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবারের এই নিষেধাজ্ঞা সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই একটি বড় অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স