৫০ বার চাকরির পরীক্ষায় ব্যর্থ; ‘সরি বাবা’ লিখে স্বর্ণপদকজয়ী যুবকের আত্মহত্যা

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ২১:১০

২০২৪ সালে বেসরকারি প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পিএসআইটির (PSIT) ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে বি-টেক সম্পন্ন করেন আনন্দ। ওই বছর তিনি বিভাগে প্রথম এবং উত্তর প্রদেশে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট কলেজের এক অনুষ্ঠানে তাকে স্বর্ণপদকও দেওয়া হয়।

অ্যাকাডেমিক পড়াশোনা শেষ করে সরকারি চাকরির জন্য চেষ্টা করছিলেন আনন্দ। তবে দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও চাকরি পাননি তিনি। সম্প্রতি ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরে ২৩ বছর বয়সী এই  প্রকৌশল স্নাতকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পরিবারের দাবি ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বারবার চেষ্টা করেও সরকারি চাকরি না পাওয়ার হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনার সময় আনন্দের পরিবারের সদস্যরা বড় ভাইয়ের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বিহারে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কানপুরের গোবিন্দ নগরের গুজাইনি এলাকায় পরিবারের তিনতলা বাড়িতে তিনি একাই ছিলেন।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘ সময় দরজায় সাড়া না পেয়ে গৃহকর্মী প্রতিবেশী ও পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আনন্দের মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে তার কক্ষ থেকে পাঁচ লাইনের একটি হাতে লেখা চিরকুটও জব্দ করা হয়।

চিরকুটে লেখা ছিল, ‘সরি, বাবা। সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য প্রায় ৫০ বার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হতে পারিনি। আমাকে ক্ষমা করে দিও।’

মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। শনিবার সন্ধ্যায় ভৈরব ঘাটে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

নিহতের বাবা রাজকুমার জানান, স্নাতক শেষ করার পর আনন্দ পাওয়ার গ্রিডে এক বছরের শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করেন। এরপর তিনি পুরোপুরি বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেন। রেলওয়ে, স্টাফ সিলেকশন কমিশন (এসএসসি), ব্যাংক এবং শিক্ষা বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিলেও তিনি কোনো চাকরি পাননি।

তার ভাষ্য, ‘গত কয়েক মাস ধরে চাকরি না পাওয়ার কারণে সে তীব্র মানসিক চাপে ছিল।’

গোবিন্দ নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) অশোক কুমার দুবে বলেন, ‘ঘর থেকে একটি হাতে লেখা চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে সরকারি চাকরি না পাওয়ার মানসিক চাপের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

ইত্তেফাক/এনএন