প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও এডিস মশার বংশবিস্তার বন্ধে সারাদেশে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা করতে সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক শোভাযাত্রার উদ্বোধনকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘যে যা-ই বলুক, দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন খারাপ অবস্থায় আছে। আমরা ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বিগ্ন। লন্ডনে চিকিত্সাধীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আছেন। সেখানেও তিনি স্বস্তিতে নেই।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ডেঙ্গু মোকাবিলাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছি। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবই। কারণ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তাই আসুন আমরা সমন্বিতভাবে এ সংকট মোকাবিলায় জনগণের পাশে দাঁড়াই।’ তিনি বলেন, সারাদেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। এটাই বাস্তব ও সত্য। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। এই পরিস্থিতিকে সরকার সিরিয়াসলি নিয়েছে। গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করছে। একদিকে সচেতনতা সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তাকে ‘মানবিক সংকট’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগও অ্যাকশন প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে। জনগণও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গু অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে আসবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মশক নিধনে ব্যবহূত ওষুধ নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। কিছু কিছু ওষুধের নাম এসেছে, যেগুলো ব্যবহারে অন্যান্য দেশে ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে। শিগগিরই কার্যকর ওষুধ পাওয়া যাবে। এ ব্যাপারে তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘অন্য দেশের অকার্যকর ওষুধ যাতে আমাদের দেশে না এসে পড়ে, সেজন্যই আমরা অতি সতর্কভাবে যাচাই-বাছাই করছি। এজন্য একটু দেরি হচ্ছে।’
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা বসে নেই, আমরা শুধু লিপ সার্ভিস দিচ্ছি না। অনেকে পত্রপত্রিকায় লিপ সার্ভিস দিচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে যার কোনো কার্যকারিতা নেই। ডেঙ্গু প্রতিরোধেও কার্যকারিতা নেই, বন্যাকবলিতদের পাশে ফটোসেশন ছাড়া কোনো কার্যকারিতা তাদের নেই।’ তিনি বলেন, ‘জনগণ আমাদের কাজকে মূল্যায়ন করবে, কথাকে নয়। তাই আসুন, বেশি কথা না বলে ও লিপ সার্ভিস না দিয়ে কাজ করি।’
অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে জনগণকে সচেতন করে তুলতে প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়।