দুই-এক দিনের মধ্যে নতুন ওষুধের নমুনা পৌঁছাবে :মেয়র আতিক

ডেঙ্গু প্রতিরোধে এবার বাসাবাড়িতে মোবাইল কোর্টের অভিযান

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেছেন, এডিস মশা নির্মূলে ডিএনসিসির ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন ভবন পরিদর্শন করছে। এডিস মশা বংশ বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নগরবাসীকে ডেঙ্গু রোগ থেকে রেহাই দিতে এবার বাসা-বাড়িতেও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। কোনো বাড়িতে এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর উত্তরায় হাবিবুল্লাহ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ডিএনসিসি এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ওয়ার্ডভিত্তিক বাসা-বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে এডিস মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মেয়র বলেন, আমরা নিশ্চয়ই এডিস মশামুক্ত ঢাকা গড়তে পারি, দরকার শুধু সচেতনতা আর সামাজিক আন্দোলন। নিজ নিজ বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোয় কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না। যেখানেই পরিত্যক্ত বালতি, কন্টেইনার ইত্যাদি পাওয়া যাবে, সেগুলো উপুড় করে দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এডিস মশা নির্মূলে প্রতিটি ওয়ার্ডকে ১০টি ভাগে ভাগ করে ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডে আগামী সোমবার থেকে ডিএনসিসি এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ শুরু করবে। এ কর্মযজ্ঞে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ৬০০ স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবেন। তিনি সব সাংবাদিককে বিভিন্ন এলাকার অপরিচ্ছন্নতার পূর্ণ তথ্য দিয়ে ডিএনসিসিকে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ জানান।

ডিএনসিসির সব মশক সুপারভাইজার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ফোন নাম্বার আজ তিনটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। মেয়র সেগুলো সবাইকে সংগ্রহ করতে অনুরোধ করেন এবং শিগগিরই অন্যান্য জাতীয় দৈনিকগুলোতেও এই তথ্যগুলো প্রচার করা হবে বলে জানান। সব মশককর্মীকে জিপিএস ট্র্যাকারের মাধ্যমে মনিটর করা হবে বলেও তিনি জানান।

ডিএনসিসির উদ্যোগে বিভিন্ন হাসপাতালে রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে মশারি দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, প্রত্যেক রোগীকে হাসপাতালে অবশ্যই মশারির ভেতরে রাখতে হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিএনসিসি এখন থেকে নিজেই মশার ওষুধ ক্রয় করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে ওষুধের মান সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, দু-একদিনের মধ্যে নতুন ওষুধের নমুনা এসে পৌঁছাবে। নমুনা পরীক্ষা করার পরে যত দ্রুত সম্ভব ওষুধ ক্রয় করা হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।