রক্ত পরীক্ষাতেই জানা যাবে স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি আছে কি না

স্মৃতিভ্রংশ এমন একটি রোগ, যাতে আক্রান্তদের মধ্যে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। দূর অতীতের পাশাপাশি অনেক সময় সাম্প্রতিক অতীতের কথাও এরা মনে রাখতে পারে না। চিকিত্সাবিজ্ঞানে রোগটি আলঝেইমার রোগ নামেও পরিচিত। এই রোগের কোনো প্রতিকার নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রোগটি ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে যায়, আর আক্রান্ত ব্যক্তির সর্বশেষ পরিণতি হয় মৃত্যু। তবে এবার বিজ্ঞানীরা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই স্মৃতিভ্রংশ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে আগেভাগে জানার উপায় উদ্ভাবন করেছেন। এই রক্ত পরীক্ষার ফলাফল ৯৪ শতাংশ ক্ষেত্রেই সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে স্মৃতিভ্রংশ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ২০ বছর আগেই জানা সম্ভব বলে দাবি করেছেন ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

তারা জানান, মূলত স্মৃতিভ্রংশে আক্রান্তদের মস্তিষ্কে একধরনের প্রোটিন তৈরি হয়। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার অন্তত ২০ বছর আগেই মস্তিষ্কে প্রোটিনের উপস্থিতি ধরা পড়ে। আর মস্তিষ্কে প্রোটিন তৈরি হওয়ার ঝুঁকি আছে কি না, সেটি জানার জন্যই বিজ্ঞানীরা বিশেষ ঐ রক্ত পরীক্ষা উদ্ভাবন করেছেন। সাধারণত এই রোগের লক্ষণ ও উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে এই রোগের বিস্তার প্রতিরোধের পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিত্সকরা। কিন্তু আগেভাগে কারো এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে জানা সম্ভব হলে প্রতিরোধেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার অগ্রগতিও কমিয়ে আনা সম্ভব অনেকাংশে।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা পঞ্চাশোর্ধ ১৫৮ জন রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান। সেখানে তাদের রক্ত পরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে জিনগত পরীক্ষার ফলাফলও পর্যালোচনা করা হয়। আলঝেইমার রোগের সাধারণত সাতটি ধাপ থাকে। বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই রোগটি ধরা পড়ে তৃতীয় ধাপে গিয়ে, যখন বেশ দেরি হয়ে যায়। কিন্তু রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার কয়েক বছর আগেই ঝুঁকি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের প্রত্যাশা, আলঝেইমারের চিকত্সায় এ বছর ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে। এর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থই ব্যয় হবে আলঝেইমার রোগের প্রতিকার অনুসন্ধানে। গবেষক দলের একজন অধ্যাপক ড. সুজানে সিন্ডলার বলেন, এটা এমন একটি রোগ, যেখানে সরাসরি কোনো ওষুধ কাজ করে না, কিন্তু প্রতিরোধ করা সম্ভব। এমনকি এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার গতিও কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে পারলে তা এ ধরনের রোগীদের চিকিত্সায় যুগান্তকারী বিপ্লব নিয়ে আসবে।-ডেইলি মেইল