পরশু শেষ হচ্ছে হজ ফ্লাইট অথচ এখনো ভিসা হয়নি তিন শতাধিক হজযাত্রীর

বাংলাদেশ থেকে শেষ হজ ফ্লাইট ছেড়ে যাবে ৫ আগস্ট। বাকি আর মাত্র দুই দিন। কিন্তু এখনো তিন শতাধিক হজযাত্রীর ভিসা হয়নি। কারণ হজ এজেন্টদের গাফিলতি, যথাসময়ে সৌদি আরব থেকে মোফা সংগ্রহ না করা, মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়া এবং টিকিট না করার কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই যাত্রীদের ভিসার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে হজ অফিস। যদিও হজ এজেন্টদের সংগঠন ‘হাব’ নেতারা বলছেন, শেষ পর্যন্ত সবাই যেতে পারবেন না। কারণ ভিসা জটিলতার পাশাপাশি অনেকে অসুস্থতার কারণে হজে যাবেন না। প্রতি বছর শেষ মুহূর্তে কিছু হজযাত্রীর ক্ষেত্রে এই সংকট তৈরি হয়।

এদিকে, শেষ সময়েও হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা থেমে নেই। টাকা নিয়ে এজেন্ট ও দালালরা লাপাত্তা হয়ে যাচ্ছেন। হজ ফ্লাইটের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সাউদিয়া ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস ১১ যাত্রীকে ঢাকার হজক্যাম্পে এনে বসিয়ে রেখেছে। এই ১১ জন যাত্রীকে আজ শনিবার ফ্লাইটের আশ্বাস দেয়া হলেও গতকাল শুক্রবার হজক্যাম্পে এসে তারা জানতে পারেন যে, এখনো তাদের বিমান টিকিট ও ভিসার আবেদনই করা হয়নি। আর গত ৩০ জুলাই সাউদিয়া ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস এজেন্সি মালিক ফিরোজ কিবরিয়া নিজেই চলে গেছেন মক্কায়।

আশকোনা হজ অফিস সূত্র জানায়, সাউদিয়া ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের মাধ্যমে এ বছর হজে যাওয়ার জন্য গ্রুপ লিডারের মাধ্যমে এই ১১ জন প্রত্যেককেই সাড়ে তিন লাখ টাকা করে জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে হজ অফিসে এসে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন জামাল শিকদার ও আবদুস সালাম নামের দুজন হজযাত্রী। ৭২ বছরের বৃদ্ধ হজযাত্রী জামাল শিকদার কান্না করছেন হজ অফিসে বসে। তিনি সাংবাদিকদের কাছে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমি অনেক আগেই সব টাকা পরিশোধ করেছি। জীবনের এই শেষ বেলায় এসে জমি বিক্রি করে আমি হজের টাকা জমা দিয়েছি। এখন যদি হজে যেতে না পারি তাহলে হয়তো জীবনে আর কোনো দিন হজেই যাওয়া হবে না। তিনি জানান, তার বাড়ি ভোলা জেলার মনপুরার চরনিজাম এর বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপে।

ঢাকা হজ অফিসের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, হজযাত্রীদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু এজেন্সির মালিক দেশে নেই তাই এখনি আমরা কোনো অ্যাকশনে যেতে পারছি না। তবে আমরা হজযাত্রীদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ নিচ্ছি।

এদিকে, ভিসা জটিলতায় অপর একটি হজ এজেন্সির ৪৫ যাত্রীর হজযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই ৪৫ জনের ভিসার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে হাব।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ বছর ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ বাংলাদেশি হজ করবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৭ হাজার ১৯৮। এসব যাত্রীর মধ্যে ৫০ শতাংশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বাকি যাত্রী বহন করবে সৌদি এয়ারলাইন্স। এবার হজযাত্রীদের ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা এবং ঢাকা-মদিনা-ঢাকা রুটে পরিবহনের জন্য বিমানের চারটি নিজস্ব বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ চলছে। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রার শেষ ফ্লাইট ৫ আগস্ট, প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ১৭ আগস্ট এবং হজযাত্রীদের শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১৫ সেপ্টেম্বর হওয়ার সিডিউল রয়েছে।

হজ অফিসের তথ্যানুসারে, গতকাল পর্যন্ত ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। এবার প্রায় প্রতিটি ফ্লাইটই নির্ধারিত সময়ে ঢাকা ছেড়ে গেছে। ফ্লাইট ছাড়ার ক্ষেত্রে বড়ো কোনো অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ নেই যাত্রীদের। তবে হজ ক্যাম্পের পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা না থাকা ও অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।